Image description

জার্মান বামদল ডি লিংকের প্রার্থী আলিফ এরাল্পই হচ্ছেন রাজধানী বার্লিনের প্রথম মুসলিম ও নারী মেয়র। নির্বাচনে প্রথমবারের মতো তার দল সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে। আলিফের নেতৃত্বে ডি লিংকে পেয়েছে ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ডি লিংক ভোট পেয়েছিল ১২ দশমিক ২ শতাংশ। এবার দলটির ভোট দ্বিগুণেরও বেশি।

৪৫ বছর বয়সী আলিফ এরাল্প তুর্কি বংশোদ্ভূত অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তার মা-বাবা ১৯৮০-এর দশকে তুরস্ক থেকে জার্মানিতে এসেছিলেন। তিনি ২০২১ সাল থেকে বার্লিনের রাজ্য সংসদের সদস্য।

আলিফ এরাল্পের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল বার্লিনের চলমান আবাসন সংকটের সমাধান।

বার্লিনে বাড়িভাড়া ও বাসস্থানের ব্যয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ চলছে। মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় ইস্যুতে সরব থাকলেও জনগণের এই মৌলিক ইস্যু নিয়ে কোনো কথা বলেনি। আর সেই সুযোগটিই নিয়েছেন আলিফ।

নির্বাচনী প্রচারে আলিফ বাড়ি ভাড়ার নিয়ন্ত্রণ এবং বড় বেসরকারি আবাসন কোম্পানির মালিকানাধীন বাড়ি সামাজিক মালিকানায় নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বাড়ির মালিকদের ভাড়া বাড়ানোকে নিয়মের মধ্যেও আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বার্লিনের অভিবাসীসহ তরুণ ভোটারা ব্যাপকভাবে বামপন্থী এই নারীকে ভোট দিয়েছেন। ২৫ বছরের কম বয়সী ভোটারদের ৪৩ শতাংশই আলিফকে ভোট দিয়েছেন। ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী যাদের আলাদা বাসা দরকার তাদের ৪৮ শতাংশই আলিফকে ভোট দিয়েছেন।

এছাড়া প্রবাসী ও অভিবাসীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং বৈষম্যবিরোধী নীতির কারণে অধিকাংশ অভিবাসী জার্মানদের ভোট পেয়েছেন আলিফ। আর এভাবেই জার্মানির ইতিমাসে প্রথম কোনো মুসলিম হিসেবে মেয়র পদে তার অভিষেক হতে যাচ্ছে।

আলিফ এরাল্পের নেতৃত্বে ডি লিংকের বড় জয়ে বার্লিনের বাংলাদেশী অভিবাসী কমিউনিটিতেও আনন্দের জোয়ার বইছে। জার্মানির সাংস্কৃতিক সংগঠক আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘সারাদেশে উগ্র ডানপন্থার জয় জয়কার। এই সময়ে বার্লিনের সচেতন নাগরিকরা জোয়ারের উল্টো দিকে গিয়ে একজন মুসলিম নারীকে ভোটে দিয়েছেন। এটা সত্যিই আনন্দের। আমরা বাঙালিরা দলমত নির্বিশেষে আলিফের পক্ষে কাজ করেছি। আর আলিফ নিজেও বলেছেন, অভিবাসী মানুষ তার মধ্যে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব দেখতে পাচ্ছেন। তিনি শহরের সব মানুষকে নিয়ে কাজ করার কথাও বলেছেন। এই বিজয় সত্যিই আনন্দের।’

বার্লিনে বাম দলের বড় জয়ের পাশাপাশি ডানপন্থী এএফডির ভোটও বেড়েছে। দলটি পেয়েছে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট। ২০২৩ সালে তাদের ভোট ছিল ৯ দশমিক ১ শতাংশ। এবার তারা তৃতীয় হয়েছে।