Image description

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনার তথ্য উঠে এসেছে।

 

এতে বলা হয়, ছয় থেকে সাত মাসের গ্রেস পিরিয়ডের (রেয়াতকাল) পর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আইসিসির সঙ্গে অধিকাংশ লেনদেন বন্ধ হবে। বিচারক বা কৌঁসুলিদের নিশানা করার পরিবর্তে এবার সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্বের ওপরই আঘাত হানছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, খুব শিগগিরই এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করবে ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অথবা এরপরপরই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

 

এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র ছাড়া আইসিসিকে কোনো অর্থ, পণ্য বা সেবা দেওয়া মার্কিন নাগরিক বা কোম্পানির জন্য দণ্ডনীয় হবে।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মার্কিন অর্থব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তারা আইসিসির সঙ্গে যেকোনো লেনদেনে কড়াকড়ি আরোপ করবে।

আইসিসির প্রেসিডেন্ট ও রেজিস্ট্রার আগেই সতর্ক করেছিলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে তথ্যপ্রযুক্তি ও বীমা সেবা ক্রয়, তদন্ত দল নিয়োগ এবং আমেরিকান কর্মীদের বেতন দেওয়ার মতো কাজগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

 

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসিতে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়নি। তবে ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

 

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো সদস্য রাষ্ট্র না হওয়ায় আদালতের এই পদক্ষেপকে এখতিয়ারবহির্ভূত বলে দাবি করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের যুদ্ধাপরাধ নিয়ে তদন্তের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

 

২০২৫ সালে ফ্লোরিডার বাসভবনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত ছবি
২০২৫ সালে ফ্লোরিডার বাসভবনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত ছবি

এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সই করা আদেশে ১২ জনের বেশি বিচারক ও কৌঁসুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

 

গত আগস্টে আইসিসি প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ হয়।

চলতি বছরের জুলাইয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসিকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং অন্যান্য দেশকে সদস্যপদ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে প্রচার শুরু করেন। এর পরপরই চাদ ও ভেনিজুয়েলা আদালত থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা