Image description

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে আরও তিনটি অ-অভিবাসী ভিসা শ্রেণি এই যাচাইয়ের আওতায় আসবে। নতুন ব্যবস্থার কারণে বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির আওতাভুক্ত নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের ভিসা প্রক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য আরও গুরুত্ব পাবে।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের তাদের জন্য জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে, যারা বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত কাজে যেতেহ আই ভিসার আবেদন করবেন। অন্যদিকে টিএন ও টিডি ভিসা মূলত কানাডা এবং মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত হওয়ায় সাধারণ বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই দুই শ্রেণির প্রাসঙ্গিকতা নেই।

নতুন করে যুক্ত হচ্ছে তিন ভিসা শ্রেণি

আগামী ১ অক্টোবর থেকে আই, টিএন ও টিডি ভিসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের আওতায় আসবে।

আই ভিসা মূলত বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য। সংবাদপত্র, সাময়িকী, বেতার, চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ব্যক্তিরা তাদের পেশাগত কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাময়িক ভ্রমণের জন্য এই ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন।

 

টিএন ভিসা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির আওতায় নির্ধারিত পেশায় সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে যাওয়া কানাডা ও মেক্সিকোর যোগ্য নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। আর টিডি ভিসা টিএন ভিসাধারীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য।

ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে নতুন তিন শ্রেণির মধ্যে আই ভিসাটিই তুলনামূলকভাবে বেশি প্রাসঙ্গিক।

আবেদনকারীদের কী করতে হবে

১ অক্টোবর থেকে আই, টিএন ও টিডি ভিসার আবেদনকারীদের তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবের গোপনীয়তা সেটিংস সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে বলা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ভিসা যাচাই ও আবেদনকারীর পটভূমি পর্যালোচনার সময় উন্মুক্ত উৎস থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হতে পারে। এর মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসাবে বিবেচিত ব্যক্তিরাও থাকতে পারেন।

তবে নতুন ঘোষণায় এমন কোনও নির্দিষ্ট তালিকা দেওয়া হয়নি যে আবেদনকারীদের কোন ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট মুছে ফেলতে হবে বা কোন ধরনের পোস্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একইভাবে, নির্দিষ্ট কোনও ধরনের পোস্ট থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে এমন কথাও জানানো হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই কি নতুন?

পুরোপুরি নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ায় কিছু আবেদনকারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। ১ অক্টোবরের পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই ব্যবস্থার আওতা আরও বাড়ানো হচ্ছে।

এর আগে থেকেই এইচ-১বি কর্মী, এফ-১ ও এম-১ শিক্ষার্থী, জে-১ বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং তাঁদের নির্দিষ্ট কিছু নির্ভরশীল অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের আওতায় ছিলেন।

অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের সব ভিসা আবেদনকারীর জন্য নতুন করে এই নিয়ম চালু হচ্ছে না। বিদ্যমান ব্যবস্থায় এবার আই, টিএন ও টিডি ভিসা শ্রেণি যুক্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য কী অর্থ

বাংলাদেশের কোনও সাংবাদিক বা যোগ্য গণমাধ্যমকর্মী যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত কাজের জন্য আই ভিসার আবেদন করলে ১ অক্টোবর থেকে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি ভিসা যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হবে।

তবে নতুন নিয়মে আই ভিসার মৌলিক যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছে এমন কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ আবেদনকারীকে আগের মতোই সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণির নির্ধারিত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য পরিবর্তনের মূল বিষয় হলো অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের পরিধি বাড়ানো। বিশেষ করে গণমাধ্যমকর্মীদের ক্ষেত্রে ভিসা আবেদনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উন্মুক্ত তথ্য যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও নির্দিষ্ট পোস্ট থাকলেই ভিসা প্রত্যাখ্যান হবে এমন কোনও স্বয়ংক্রিয় নিয়মের কথা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের ঘোষণায় বলা হয়নি।