Image description

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করছে ওয়াশিংটন।

 

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইয়েমেনে কী ঘটছে তা নিয়ে হুতিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছে মার্কিন সরকার। মার্কিন জনগণের জন্য যা সঠিক বলে তারা মনে করছে, সেই বিষয়টি আলোচনায় প্রভাব ফেলছে বলেও জানান তিনি।

 

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তার জন্য সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদন করেছে বলে ব্যাপকভাবে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি হুতিদের বিরুদ্ধে হামলায় সরাসরি যুক্ত হতে এবং সৌদি সামরিক অভিযানে সহায়তা করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অনুরোধ করেছে রিয়াদ।

 

তবে ট্রাম্প ও মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবের হয়ে তারা সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। তবে সৌদিদের গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট।

 

অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে হুতিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছে, অন্যদিকে সৌদি আরব ও অন্যান্য মিত্রের সঙ্গে হুতিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে কী করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা করছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপের পরিপ্রেক্ষিতে হুতি ইস্যুটি ওয়াশিংটনের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সৌদি ‘নিরাপদ থাকবে না’: হুতি
সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে শত্রুতা অব্যাহত রাখলে দেশটি ‘নিরাপদ থাকবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, সৌদি আরব গত ১২ বছর ধরে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন ও অবরোধ শুরু এবং অব্যাহত রেখেছে’।

হুতিদের দাবি, গত পাঁচ দিনে সৌদি আরবের খামিস মুশাইত ও তাইফ গভর্নরেটের ঘাঁটি থেকে ইয়েমেনে ৩৫০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, হুতিরা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হন এবং তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হুতিদের সঙ্গে ‘সরাসরি আলোচনা’ চলছে: ভ্যান্স
কানসাস সিটিতে একটি নির্বাচনী সমাবেশের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভ্যান্স বলেন, মান্দেব প্রণালীর মায়ুন দ্বীপ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার ঘটনায় তিনি উদ্বিগ্ন।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং ‘অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যদের’ সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে গোয়েন্দা ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা ইয়েমেন সংকটে ওয়াশিংটনের দ্বিমুখী কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা