Image description
ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন শুরু হতে আর ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় বাকি। এ দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বহুল প্রত্যাশিত নয়াদিল্লি সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রেখেছে বেইজিং। শি ভারত সফরে আসছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি চীন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
 
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে।
 
শি চিনপিংয়ের সফর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের কাছে ‘কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই’।
 
এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শি শেষ পর্যন্ত বার্ষিক এই সম্মেলনে অংশ নিলে, সাত বছরের মধ্যে এটি হবে তার প্রথম ভারত সফর। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র যখন সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, তখন দুই দেশের মতপার্থক্যগুলো পাশে রেখে শক্তিশালী ঐক্যের বার্তা দেয়ার প্রচেষ্টারও একটি বড় উদাহরণ হবে এই সফর।
 
ভারত-চীন সম্পর্ক
১৯৬২ সালে চীন ও ভারতের মধ্যে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ হয়। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সীমান্ত সংঘর্ষের পর সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। ওই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা এবং অজ্ঞাতসংখ্যক চীনা সেনা নিহত হন।
 
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীন সফর করার পর এবং উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্থির সম্পর্ক মোকাবিলা করার সময় সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে।
 
২০২০ সালের সংঘর্ষের পর চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপ করা কিছু বিধিনিষেধও পরে শিথিল করেছে নয়াদিল্লি। ইলেকট্রনিকস, মূলধনী পণ্য ও সৌরকোষ খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
 
ভারতীয় ও চীনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কয়েকটি খাতে যৌথ উদ্যোগের অনুমোদন আরও দ্রুত দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে ভারত।
 
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, শি চিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মনে করেন, দুই দেশ ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার এবং একে অপরের উন্নয়নের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ’।
 
রয়টার্সকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারতে চীনা কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত বিনিয়োগ এখন বেইজিংয়ের পক্ষ থেকেও আরও বেশি যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে অত্যাধুনিক উৎপাদন ও উচ্চপ্রযুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে এমন যাচাই বেশি হচ্ছে।
 
এরপরও গত বছর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১৫৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চীনের শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছর আগে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৭১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে তা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
 
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দুই দেশের বাণিজ্য আরও ২৩ শতাংশ বেড়েছে।
 
আস্থার ঘাটতি
বিশ্লেষকেরা আরও বলেছেন, দুই দেশের ব্যবসাগুলো এখনো বিভিন্ন বাধার মুখে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিধিনিষেধের কারণে বিনিয়োগ আটকে থাকা, ভিসা পেতে দেরি এবং শিল্প সরঞ্জামের ওপর বিধিনিষেধ। এসব বিষয় কূটনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বাস্তব অবস্থার মধ্যে ব্যবধানকে স্পষ্ট করছে।
 
বিশ্লেষকদের মতে, শি চিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠক দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
 
সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ এবং নয়াদিল্লিতে চীনা দূতাবাসের সাবেক কূটনীতিক লিন মিনওয়াং রয়টার্সকে বলেন, চীন অবশ্যই দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত করতে চায়। তবে ‘ভারত আসলে কতটা সম্পর্ক উন্নত করতে চায়, সেটি দেখার অপেক্ষায় রয়েছে চীন।’
 
লিন মিনওয়াং মনে করেন, দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
 
নয়াদিল্লির থিংকট্যাংক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হর্ষ পান্তও দুই দেশের মধ্যে ‘আস্থার ঘাটতি’ অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেছেন।
 
তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘চীনের অর্থনৈতিক শক্তি রয়েছে। বিশেষ করে যখন দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তখন সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার ভালো সুযোগ রয়েছে।’