ইসরায়েলের গাজা অবরোধ ভাঙতে এবং অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ত্রাণ পৌঁছাতে নতুন করে আন্তর্জাতিক অভিযান শুরু করেছে ফ্রিডম ফ্লোটিলা জোট (এফএফসি)। অক্টোবর মাসে গাজা উপকূলে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় বন্দর হয়ে এই ফ্রিডম ফ্লোটিলার জাহাজগুলো যাত্রা করবে।
পূর্ববর্তী অভিযানগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে চরম নির্যাতন, গণপ্রহার, বারংবার টেজার গান দিয়ে আঘাত এবং যৌন হয়রানির শিকার হওয়া সত্ত্বেও এই মিশনটি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এফএফসি। একই সঙ্গে ইসরায়েল গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানি প্রবেশে বাধা দিচ্ছে অভিযোগ তুলে বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এফএফসির স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য জোহর চেম্বারলেইন রেজো বলেন, আমাদের সরকারগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় ফ্রিডম ফ্লোটিলা আবারও যাত্রা শুরু করেছে। আগামী অক্টোবরে গাজার তীরে বিশ্বের মানুষের সংহতি ও স্বাধীনভাবে বাঁচার দাবি পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।
ইতোমধ্যে ‘হান্দালা ২’ ও ‘কেট’ নামের দুটি জাহাজ ইউরোপের নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, জার্মানি ও ফ্রান্স পরিদর্শন করেছে। স্পেন, পর্তুগাল ও ইতালি হয়ে জাহাজগুলো গাজার উদ্দেশে রওনা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের এক প্রকৌশলী অ্যাডওয়ার্ড ডিগিলিও বলেন, গাজার দিকে যাত্রা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ জানি, তবে নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও বড় ক্ষতির কারণ।
এর আগে ২০১০ সালে ‘মাভি মারমারা’ জাহাজে ইসরায়েলি হামলায় ১০ জন কর্মী নিহত হন। এমনকি ২০২৫ সালের এপ্রিলে গঠিত গ্লোবাল সোমুদ ফ্লোটিলার প্রায় ১৫টি জাহাজে আন্তর্জাতিক জলসীমায় হামলা চালিয়ে কর্মীদের তুলে নিয়ে প্রহার ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। গাজায় আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পথ নিশ্চিতে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি দাবি জানিয়েছে এই জোট।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই