যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে ইরানকে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরুর জন্য তিনি কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না।
বুধবার (২৬ আগস্ট) আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমার কোনো সময়সূচি নেই। কোনো তাড়াহুড়ো করছি না। একেবারেই কোনো সময়সীমা নেই।
ইরানকে আলোচনায় ফিরতে কতটা সময় দেওয়া হচ্ছে— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমরা অনেক বড় ব্যবধানে জয়ী হচ্ছি। ইরানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে এবং সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সামরিক হামলার চেয়ে বেশি কার্যকর কি না– জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয়, দুটিই কার্যকর।
এই শুক্রবার ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পূর্ণ হবে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প একাধিকবার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। একপর্যায়ে তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল। এতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মতো বিষয় ছিল। চলতি মাসে ওই সমঝোতার মেয়াদ শেষ হয়েছে।
ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা
ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গত সোমবার ইরানের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা ৬০টি প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মার্কিন প্রশাসন এর নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’।
নতুন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন করছে। তেহরানের ভাষ্য, কোনো সার্বভৌম দেশ এ ধরনের চাপ মেনে নেবে না।
যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনও কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের দাম দ্রুত কমেছে। বেড়েছে খাদ্য ও ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।
দেশটির মুক্তবাজারে এক মার্কিন ডলারের দাম এখন ২০ লাখ রিয়ালের বেশি। যুদ্ধের আগে ২০ লাখ রিয়ালে প্রায় চার কেজি টমেটো, আধা কেজি মুরগির মাংস এবং এক লিটারের সামান্য কম রান্নার তেল কেনা যেত। এখন একই অর্থে এসব পণ্যের প্রায় অর্ধেক কেনা যায়। এ সময়ে টমেটোর দাম ৭১ শতাংশ, মুরগির ৭৪ শতাংশ এবং রান্নার তেলের দাম ১৭৭ শতাংশ বেড়েছে।
তবে ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে এই অর্থনৈতিক চাপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা বড় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখনো নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনেনি যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই চীনে যায়। এতে ইরান বছরে কয়েক হাজার কোটি ডলার আয় করে।
চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, আমি কেন বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চাইব?
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দৃঢ়তা দেখিয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা দেশটির সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াতে পারে। তবে এর ফলে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে বাধ্য হবে— এমন নিশ্চয়তা নেই।
ওয়াশিংটনভিত্তিক কুইন্সি ইনস্টিটিউটের প্রধান ত্রিতা পারসি বলেন, নিষেধাজ্ঞা ইরানের জনগণের জন্য বেদনাদায়ক হতে পারে। তবে এই চাপকে ইরানের নীতিতে পরিবর্তন আনার মতো পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।