Image description

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত কিছুই অর্জন করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার রাজধানী তেহরানে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক, বৈদেশিক মুদ্রা ও আর্থিক সূচকগুলোর সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে অর্থনীতি ও অর্থমন্ত্রী সৈয়দ আলী মাদানিসাদে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেমাতি এবং একদল বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ উপস্থিত ছিলেন।

মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান আলোচনা ও যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলেও যেকোনও অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই শক্ত অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বজায় রাখবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসনিক অর্থনৈতিক খাতের সার্বিক প্রস্তুতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এই পর্যায়েও চাপ দিয়ে সুবিধা করতে পারবে না। যেমনটি বিগত ৪০ দিনের যুদ্ধে সশরীরে দেখা গেছে, যেখানে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী এবং সাধারণ জনগণ তাদের সাহস ও সমর্থনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে দিয়েছিল।

 

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সহায়তা করা যেকোনও দেশের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি এই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন মাত্রার অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে একে ইকোনমিক ডি-ডে নাম দেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা চালায়। জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালায়। পরবর্তীতে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ শেষ করতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির অধীন চুক্তি বাস্তবায়নে ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা বৈঠকে বসার কথা থাকলেও, বিগত মাসে উভয় দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে সেই আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।