ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও সম্ভাব্য পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ‘সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং।
তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকির জবাবে মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, চীন ও ইরানের সহযোগিতা সবসময় আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পরিচালিত হয়েছে। এতে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। চীন এককভাবে চাপানো অবৈধ নিষেধাজ্ঞার চরম বিরোধী। চীন তার নিজস্ব অধিকার ও স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।
চীন বর্তমানে ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ তেল রফতানির অংশীদার। এর আগে সোমবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে জড়িত ৬০ জন ব্যক্তি, সংস্থা ও জাহাজের ওপর প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে চীনের কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই তালিকায় রাখা হয়নি। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিশ্ব আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন হুমকির জবাবে ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিসাদে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, আমাদের প্রতিরক্ষা আর আগের মতো প্রতিরক্ষামূলক নেই; শত্রুদের এখন আক্রমণের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।
ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং সেখান দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট করেছেন যে সামরিক পদক্ষেপের পথ বন্ধ হয়ে যায়নি। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বা ইরানের আশপাশে সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা আমরা কোনোভাবেই উড়িয়ে দিচ্ছি না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ছয় মাসের দীর্ঘ যুদ্ধে সামরিক লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল নিচ্ছে, যদিও এতে দ্রুত কোনও সমাধান আসার সম্ভাবনা কম।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান