Image description

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে বিতর্কিত ‘ই-১’ সেটেলমেন্ট বা বসতি স্থাপন প্রকল্পের জন্য নির্মাণ দরপত্র আহ্বান করায় ইসরায়েলি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে বিশ্বের ৭টি প্রভাবশালী দেশ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে এবং কানাডার শীর্ষ নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের এ সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং অবিলম্বে পরিকল্পনাটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ‘ইউকে প্রাইম মিনিস্টার’ এর ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এ বিবৃতি দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের এ বসতি সম্প্রসারণ নীতি ও পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে। প্রকাশ্যে ও গোপনে— উভয়ভাবেই নিজেদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়ে আসা হয়েছে। পশ্চিম তীরে ই-১ বসতি নির্মিত হলে তা পুরো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে খণ্ডিত করবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বহুল আলোচিত ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

যৌথ বিবৃতিতে আরও জোর দিয়ে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের যে কোনো বসতি স্থাপন সম্পূর্ণ বেআইনি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও বেশ কয়েকবার এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বর্তমানে পশ্চিম তীরে চরম অস্থিরতা ও সহিংসতা বিরাজ করছে। একদিকে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অভূতপূর্ব হামলা ও সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিনের অর্থনীতির ওপর নানামুখী কঠোর বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে ইসরায়েল সরকারের দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত ও উদ্বেগজনক করে তুলবে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্ব নেতারা।

সাতটি দেশের নেতারা ইসরায়েলকে এই চরম সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার তাগিদ দিয়ে বলেন, আমরা ইসরায়েল সরকারকে অবিলম্বে এই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করার এবং পশ্চিম তীরে সব ধরনের বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি। এসব পদক্ষেপ শুধু শান্তির পথকেই রুদ্ধ করে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের নিজস্ব ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে।

একই সঙ্গে নির্মাণ সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ই-১ প্রকল্পের দরপত্রে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের বেআইনি প্রকল্পে যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হবে, যার ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি ও সুনামগত মারাত্মক খেসারত দিতে হতে পারে।

যৌথ বিবৃতি তারা অবিলম্বে স্থায়ী ও ন্যায়ভিত্তিক শান্তির তাগিদ দেন। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানান, দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে একটি বিস্তৃত, সুষম ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।