হরমুজ প্রণালি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর ইরানি কূটনীতিকরা এক ব্যঙ্গাত্মক মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। মূলত একতরফাভাবে যেকোনো আন্তর্জাতিক ভূখণ্ডকে নিজের দাবি করার ট্রাম্পের এই মানসিকতার অসারতা তুলে ধরতেই ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘নতুন ইরানি ভূখণ্ড’ হিসেবে মানচিত্রে দেখানো হয়। এর আগে নিউইয়র্কের একটি পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় ট্রাম্প দাবি করেন যে, ইরান শোচনীয়ভাবে হারছে এবং তাকে পুরোপুরি পরাজিত করার পর দ্রুতই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এমনকি মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে এটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশে পরিণত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন না চাইলে কোনো জাহাজই ওই পথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি শুরুতেই সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কেবল টুইট করে, বিমানবাহী রণতরি পাঠিয়ে কিংবা কোনো একক আদেশ জারি করে এই প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, আছে এবং সবসময় ইরানেরই থাকবে।
গারিবাবাদি আরও মন্তব্য করেন, ট্রাম্প যেভাবে ‘পারস্য উপসাগর’ নামটি সঠিকভাবে লিখতে পেরেছেন, ঠিক তেমনি শিগগিরই হরমুজ প্রণালি সম্পর্কিত তার ভ্রান্ত ধারণাও শুধরে যাবে।
এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির ওপর আন্তর্জাতিক আইনে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন উঠে এসেছে। আল-জাজিরার এক এক্সপ্লেইনার অনুযায়ী, কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের একক বা একতরফা ঘোষণায় কোনো ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্বের পরিবর্তন ঘটে না।
মার্কিন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্রুস ফেইনের মতে, প্রেসিডেন্টের একা কোনো অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সাংবিধানিক এখতিয়ার নেই; এজন্য সিনেটের অনুমোদনপ্রাপ্ত চুক্তি বা বিশেষ আইনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ নাটালি ক্লেইন মনে করেন, এই জলপথের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ইরান বা তার উপকূলীয় এলাকা দখল করতে হবে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শাসনের সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন (ইউএনসিএলওএস) অনুযায়ী, উপকূলীয় কোনো দেশের আঞ্চলিক জলসীমা সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত হতে পারে।
হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ২১ নটিক্যাল মাইল হওয়ায় সেখানে ইরান ও ওমানের ১২ নটিক্যাল মাইলের সীমান্ত একে অপরের সাথে মিশে গেছে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কেউই এই সনদে স্বাক্ষর করেনি, তবুও প্রণালি সংক্রান্ত এসব বৈশ্বিক নীতি সর্বজনস্বীকৃত নিয়ম হিসেবে বিশ্বজুড়ে গণ্য হয়।