Image description

গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের কাছে একটি চিড়িয়াখানায় যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও টিকার সংকটে সেখানকার অনেক প্রাণী অপুষ্টি ও দুর্বলতায় ভুগছে। পশু চিকিৎসকেরা বলছেন, বর্তমানে প্রাণীদের যে খাবার দেওয়া হচ্ছে, তা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিড়িয়াখানায় আসা শিশুরা খাঁচার ভেতর একটি সিংহকে প্রায় নিস্তেজ অবস্থায় দেখতে পায়। অন্যদিকে শিম্পাঞ্জিরাও ছিল বেশ দুর্বল ও নিষ্প্রাণ। তবে নানা সংকটের মধ্যেও প্রাণীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন চিড়িয়াখানার মালিক মাহমুদ গোমা।

গোমা আগে দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে চিড়িয়াখানা পরিচালনা করতেন। ২০২৪ সালে ইসরায়েলি সেনারা ওই এলাকার একটি অংশে হামলা ও দখল শুরু করলে তাকে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে হয়। যুদ্ধের মধ্যে তিনি বেঁচে থাকা প্রাণীগুলোকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেন। চলতি বছরের শুরুতে মধ্য গাজার নুসেইরাতে একটি জায়গা পেয়ে সেখানে আবার চিড়িয়াখানা চালু করেন।

 
 
 

গোমা বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর মানুষ যেখানে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করছিল, সেখানে তিনি নিজের চেয়েও বেশি প্রাণীগুলোকে বাঁচানোর চিন্তা করেছেন।

 
 

তবে প্রাণীদের খাবার জোগাড় করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। গাজার মানুষের জন্যই যেখানে পর্যাপ্ত খাবার নেই, সেখানে বন্যপ্রাণীদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

 

ধ্বংসস্তূপে গাজার চিড়িয়াখানায় ভালো নেই প্রাণীরা

 

পশু চিকিৎসক নিদাল ফাদেল বলেন, বর্তমানে প্রাণীদের হিমায়িত মাংস খাওয়ানো হচ্ছে। তার মতে, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সঠিক পুষ্টি পরিকল্পনা নয়। কারণ প্রকৃতিতে এসব প্রাণী তাজা শিকার খেয়ে থাকে।

যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবও পড়েছে প্রাণীদের ওপর। রাফাহ থেকে পালানোর সময় গোমা তিনটি সিংহ, কয়েকটি কুমির ও আফ্রিকান উটপাখি রেখে যেতে বাধ্য হন। কয়েক মাস পর সেখানে ফিরে তিনি শুধু কুমির ও উটপাখিগুলোর হাড় দেখতে পান। খাঁচায় থাকা তিনটি সিংহও নিখোঁজ হয়ে যায়।

যুদ্ধের গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের শব্দেও প্রাণীদের ওপর ব্যাপক মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। পশু চিকিৎসক আমির খলিল বলেন, সিংহ এমন শব্দ ও পরিবেশগত পরিবর্তনও টের পায়, যা মানুষ অনেক সময় বুঝতে পারে না। নিয়মিত বোমাবর্ষণ ও সংঘাত তাদের মধ্যে ভয় ও তীব্র চাপ তৈরি করে।

নুসেইরাতের চিড়িয়াখানায় থাকা সিংহটি দর্শনার্থীদের দিকে প্রায় তাকাচ্ছিলই না। তবে কিছু প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছে শিশুরা। কেউ তোতা কাঁধে বসিয়েছে, কেউ ছোট বানরকে আদর করেছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় শিশুদের জন্য এমন বিনোদনের সুযোগ এখন খুবই সীমিত। চিড়িয়াখানায় আসা ৪২ বছর বয়সী কারাম আল-মাজিন বলেন, শিশুদের খেলার মতো জায়গা এখন নেই। চারপাশে শুধু ধ্বংসস্তূপ, পাথর আর তাঁবু। ফলে শিশুরা একদিকে যেমন বিরক্ত, অন্যদিকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দিন কাটাচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স