Image description

তীব্র গরমের হাত থেকে বাঁচতে নাগরিকদের কুকুরের মাংসের স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দেশটির শাসক ওয়ার্কার্স পার্টির মুখপাত্র ‘রোড সিনমুন’ এক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে এই বিশেষ খাবারের সুপারিশ করেছে।

 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে তাপমাত্রা ৩৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। দেশটিতে আবহাওয়ার রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে এটিই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

 

প্রতিকূল আবহাওয়ায় দেশটির প্রথাগত বিশ্বাস অনুযায়ী, অস্বাভাবিক গরমে টিকে থাকতে নাগরিকদের কুকুরের মাংসের স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উনকে এমন একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যে তার নিজের দেশের জনগণের কষ্ট ভাগ করে নিতে এই প্রতিকূল পরিস্থিতি সহ্য করছেন।

 

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ২ আগস্ট প্রকাশিত এক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে ক্ষমতাসীন দলের মুখপত্র ‘রোড সিনমুন’ পিয়ংইয়ং জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের বরাতে জানিয়েছে, তরমুজ, শসা ও মুগ ডালের মতো শরীর ঠান্ডা রাখা খাবারের পাশাপাশি কুকুরের মাংসের স্যুপ, মাছের জাউ এবং লাল শিমের জাউয়ের মতো ‘পুষ্টিকর খাবার’ খেতে হবে।

 

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমটি কুকুরের মাংসের স্যুপ নিয়ে আলাদা একটি বিশেষ নিবন্ধও প্রকাশ করেছে। নিবন্ধে এটিকে গ্রীষ্মকালের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে বর্ণনা করা হয়। নিবন্ধে একটি পুরোনো প্রবাদও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়—‘গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের সময় যদি পায়ের ওপর কুকুরের মাংসের স্যুপ পড়ে, তবে তা ওষুধ হয়ে যায়।’

 

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশটিতে চলতি বছরের শুরুর দিকে কুকুরের মাংস রান্নার একটি জাতীয় প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

 

উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত গরমের কারণে মৃত্যুর কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় দাবদাহজনিত কারণে ২০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।