Image description

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মসজিদের মাইক খুলে নিতে পুলিশ ও প্রশাসন চাপ দিচ্ছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তবে রাজ্য সরকার বলছে, দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের বিধিমালা অনুযায়ী সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রয়োগ করা হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত মালদা জেলার চাচল থানার একটি মসজিদের মাইক অপসারণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর। ভিডিওতে পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে স্থানীয়দের মাধ্যমে মাইক খুলে নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, একাধিক মসজিদ কমিটি পুলিশের কাছ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার চাপের অভিযোগ জানিয়েছে। তিনি বলেন, যদি প্রশাসনের লিখিত নির্দেশ না থাকে, তাহলে মাইক অপসারণে বাধ্য করা উচিত নয়। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে চলার বিষয়ে তারা সম্মত বলেও উল্লেখ করেন।

আইএসএফের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীও রাজ্য পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। তার দাবি, লিখিত নির্দেশনা ছাড়া মৌখিক আদেশে বিভিন্ন এলাকায় মসজিদের মাইক অপসারণ করা হচ্ছে, যা আইনের ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বিষয়টি নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হলেও তা যেন কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে প্রয়োগ করা না হয়। তিনি মসজিদ ও মন্দির—উভয় ক্ষেত্রেই নির্ধারিত শব্দসীমা অনুসরণের পক্ষে মত দেন।

অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব বলছে, এটি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান নয়। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নির্ধারিত শব্দসীমা সব ধর্মীয় স্থানের ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। আইন সবার জন্য সমান বলেও তারা দাবি করেন।

এদিকে মুসলিম নেতাদের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশে মাইক পুরোপুরি অপসারণের কথা বলা হয়নি; বরং নির্ধারিত ডেসিবেল সীমার মধ্যে ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এ কারণে তারা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন।

শীর্ষনিউজ