Image description

পশ্চিমা বিশ্বে তীব্র সমালোচিত এক চরিত্র, ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ইসরাইলের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো গোপন ষড়যন্ত্রে তাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি একেবারেই অবিশ্বাস্য। মারকো কার্নেলোস, সাবেক ইতালীয় কূটনীতিক, যিনি বর্তমানে সোমালিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং জাতিসংঘে দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি এ বিষয়ে তার মতামতে বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরেছেন। 

 

চলতি মাসে মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস একটি চমকপ্রদ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দাবি করা হয়েছে, ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে নিজেদের গুপ্তচর হিসেবে গড়ে তুলতে বছরের পর বছর ধরে কাজ করেছে। তাদের লক্ষ্য ছিল, ইসলামি প্রজাতন্ত্র-পরবর্তী ইরানে তাকে নতুন নেতা হিসেবে বসানো।

প্রবীণ অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি দলের লেখা এই প্রতিবেদনে বুদাপেস্টে গোপন বৈঠক, মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ, গোপনে অর্থ প্রদান এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে আহমাদিনেজাদের বোমা বিধ্বস্ত বাসভবন থেকে তাকে নাটকীয়ভাবে উদ্ধারের কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

এখান থেকেই গল্পটি ঘোলাটে হতে শুরু করে। বলা হয়েছে, আহমাদিনেজাদকে ইরানের ভেতরেই মোসাদের একটি সেফ হাউসে (নিরাপদ আস্তানা) নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু দ্রুতই তিনি ইসরাইলিদের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে সেখান থেকে চলে যান। তিনি কি পালিয়ে গিয়েছিলেন নাকি তাকে চলে যেতে দেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনা যা-ই হোক না কেন, এই কাহিনি অন্তত মোসাদের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে।

গল্পটি শুনতে যতই রোমাঞ্চকর লাগুক না কেন, একটু গভীরভাবে খেয়াল করলেই এর মধ্যে অনেক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এই প্রতিবেদন যে পরিমাণ শোরগোল ফেলেছে, তার চেয়েও অনেক বেশি যাচাই-বাছাইয়ের দাবি রাখে এটি।

যারা ইরানের জটিল ক্ষমতা কাঠামো সম্পর্কে জানেন, তারা ভালো করেই বোঝেন যে প্রেসিডেন্ট সেখানকার শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নন। সর্বোচ্চ নেতা (সুপ্রিম লিডার) এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হাতেই সব প্রধান ক্ষমতা কুক্ষিগত। দেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর গোপন তথ্য এবং বিদেশে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান কেবল তাদেরই আছে।

ইসরাইল যদি সত্যিই ইরানের বড় কোনো নেতাকে গুপ্তচর বানাতে চাইত, তবে তাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল সর্বোচ্চ নেতার কোনো সহযোগী, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কোনো সদস্য অথবা আইআরজিসির শীর্ষ কোনো কর্মকর্তা।

অবিশ্বাস্য পটভূমি ও দুর্বল কৌশল

এই গল্পের সবচেয়ে সন্দেহজনক দিকটি হলো, কীভাবে এই ‘নিয়োগ’ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তার বর্ণনা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাঙ্গেরির এক সরকারি কর্মকর্তা বুদাপেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টরকে অনুরোধ করেছিলেন আহমাদিনেজাদকে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাতে। মূলত ইসরাইলি গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি আড়াল করতেই এই আবরণ তৈরি করা হয়।

ইসরাইলের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিজেরাই প্রকাশ্যে এমন বর্ণনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এলিট ‘ইউনিট ৮২০০’-এর সাবেক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হানান গেফেন এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, মোসাদের একজন বর্তমান প্রধান ব্যক্তিগতভাবে কোনো টার্গেটের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন—এটি গোয়েন্দা কার্যক্রমের সাধারণ নিয়মের এক বিরাট লঙ্ঘন। পেশাদার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সাধারণত তাদের প্রধানকে এমন একজন অপরীক্ষিত ও উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ টার্গেটের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের ঝুঁকিতে ফেলেন না। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কয়েক দশক ধরে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

সন্দেহজনক আবরণ

আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি সারাক্ষণ বিশ্বের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকদের নজরে থাকেন—তার সঙ্গে বৈঠকের জন্য জলবায়ু সম্মেলনকে ‘কাভার’ বা আবরণ হিসেবে ব্যবহার করাটা বড্ড বেমানান, বিশেষ করে ২০২৪ সাল থেকে চলমান একটি কথিত অপারেশনের জন্য।

তাছাড়া, এই অপারেশনের কিছু অংশ অন্য একটি সরকারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াটাও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। অরবান সরকার ইসরাইলের যতই বন্ধুভাবাপন্ন হোক না কেন, এমন পদক্ষেপ একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অপারেশনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকিই কেবল বাড়িয়ে দেয়।

আহমাদিনেজাদ কেন বেমানান?

গোয়েন্দা কৌশলগত আপত্তিগুলো সরিয়ে রাখলেও, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পর ইরানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আহমাদিনেজাদকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি রীতিমতো অদ্ভুত। এই সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট তার আট বছরের মেয়াদে উচ্চস্বরে হলোকাস্ট (ইহুদি নিধন) অস্বীকার করেছেন, ইসরাইল ধ্বংসের ডাক দিয়েছেন এবং পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

যেকোনো বিচারেই, গত পঁচিশ বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি ইরানের অন্যতম ‘বিষাক্ত’ রাজনৈতিক চরিত্র। পশ্চিমা বিশ্বে তিনি তীব্রভাবে ঘৃণিত এবং কট্টর চরমপন্থি হিসেবে পরিচিত। ইসরাইলি গোয়েন্দারা যদি এমন কাউকে খুঁজত, যিনি শাসনব্যবস্থার পতনের পর ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন, আন্তর্জাতিক বৈধতা পাবেন এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পারবেন—তবে সেই পদের জন্য আহমাদিনেজাদ সবচেয়ে অযোগ্য প্রার্থী।

নিজ দেশের শাসনব্যবস্থাই তাকে পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে একাধিকবার অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। সংস্কারবাদীরা তার জনতুষ্টিবাদী (পপুলিস্ট) স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের জন্য তাকে অবিশ্বাস করে, আর কট্টরপন্থিরা তাকে অবিশ্বাস করে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির সমালোচনা করার জন্য। ক্ষমতা গ্রহণের মতো কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক ভিত্তি তার ছিল না। তাকে ক্ষমতায় বসানো জাতীয় পুনর্মিলনের জন্য কোনোভাবেই ভালো উদ্যোগ হতো না, যা যেকোনো যৌক্তিক গোয়েন্দা সংস্থা সাধারণত চাইবে।

খোদ ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দাদের সন্দেহ

ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই পরিকল্পনাটিকে অবাস্তব বলে মনে করেছিলেন। তারা সতর্ক করেছিলেন যে, পতনের পর একটি বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী ঘটবে, তা অনুমান করা একেবারেই অসম্ভব। বিশেষ করে পরিকল্পনার শেষ পর্যায়—আহমাদিনেজাদকে নেতা হিসেবে বসানো—নিয়েই তাদের বেশি সন্দেহ ছিল।

সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন যে, এটি বাস্তবায়ন করতে গেলে ইসরাইল উলটো বিপদে পড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা ছিল, কোনো প্রতিষ্ঠিত বেসামরিক বিকল্প ছাড়া খামেনি সরকারের পতন ঘটালে ক্ষমতা পশ্চিমা-ঘেঁষা কারও হাতে না গিয়ে বরং রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) হাতেই চলে যেতে পারে।

যখন অপারেশনটি কথিতভাবে চলছিল, তখনই যদি খোদ ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দারা এর চূড়ান্ত লক্ষ্যটিকে অবাস্তব বলে মনে করে থাকেন, তবে বাইরের পর্যবেক্ষকদেরও এই পুরো পরিকল্পনার কৌশলগত যৌক্তিকতা নিয়ে যথেষ্ট সাবধান হওয়া উচিত।

বর্তমানে ইরানের দিকে তাকালে—বিশেষ করে সর্বোচ্চ নেতার আড়ালে থাকা এবং দেশের গোপন ক্ষমতার কাঠামো বিবেচনায়—আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় না বসালেও চলমান ক্ষমতার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত আইআরজিসিই যে চালকের আসনে বসবে, সে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও প্রমাণের অভাব

এখানে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটি বিষয়ও লক্ষণীয়। বিশ্লেষকরা ইসরাইলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং মোসাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দ্বন্দ্বের কথা উল্লেখ করেছেন। অক্টোবরের নির্বাচনের আগে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিই হয়তো নির্ধারণ করে দিচ্ছে কীভাবে এবং কার মাধ্যমে এই গল্পটি ছড়ানো হচ্ছে। এক সংস্থার সাহসিকতার প্রশংসা করে পরোক্ষভাবে অন্য সংস্থার সতর্কতার সমালোচনা করা গোয়েন্দা আমলাতন্ত্রের একটি চিরচেনা রূপ; ইসরাইলও এর ব্যতিক্রম নয়।

আহমাদিনেজাদের দপ্তর এই পুরো দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা একে ‘হলিউড-স্টাইলের দাবি’ আখ্যা দিয়ে বলেছে যে, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করারও যোগ্য নয়। তারা নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে বানোয়াট তথ্য প্রকাশের অভিযোগ এনেছে। অভিযুক্ত পক্ষগুলো স্বাভাবিকভাবেই এমন দাবি অস্বীকার করবে, তাই তাদের কথা পুরোপুরি সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। তবে এটি এমন একটি গল্পে আরও সংশয় তৈরি করে, যা পুরোটাই বেনামি সূত্রের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

টাইমস-এর প্রতিবেদনটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, মোসাদ পত্রিকাটির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। কোনো দালিলিক প্রমাণ, রেকর্ডিং বা নাম-পরিচয়যুক্ত কোনো গোয়েন্দা কর্মকর্তার বক্তব্য এখানে উপস্থাপন করা হয়নি। একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা তাদের এক পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন আঞ্চলিক প্রতিপক্ষের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানকে নিজেদের নেতা হিসেবে বসানোর জন্য বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা চালিয়েছে—এমন বিশাল দাবির সপক্ষে প্রমাণের ভিত্তি একেবারেই নড়বড়ে।

 

 

বাস্তবতার নিরিখে উপসংহার

গল্পের সামঞ্জস্যেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। মার্কিন-ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের সাম্প্রতিক সব চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে অত্যন্ত সুকৌশলে একটি নাটকীয় সুতোয় গাঁথা হয়েছে: খামেনিকে হত্যা, আহমাদিনেজাদের বাসভবনে হামলা, গোপন উদ্ধার অভিযান, ব্যর্থ কুর্দি অভ্যুত্থান এবং নিহত সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় আহমাদিনেজাদের রহস্যময় উপস্থিতি ও এরপর তাঁর কথিত গৃহবন্দি দশা।

বাস্তব গোয়েন্দা অভিযানগুলো কখনোই এতটা গুছানো হয় না। প্রকৃত গোপন অপারেশনগুলো হয় অগোছালো, বিচ্ছিন্ন এবং বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও তা পুরোপুরি জোড়া লাগানো কঠিন। একটি নিখুঁত গল্প—নিয়োগ, যুদ্ধের ক্লাইম্যাক্স, বিশ্বাসঘাতকতা এবং শাস্তি—যা ঘটনার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকাশ পায় এবং পুরোটাই একটি চলমান যুদ্ধের উভয় পক্ষের বেনামি সূত্রের ওপর নির্ভরশীল, তা যেকোনো বিশ্লেষকেরই ভ্রু কুঁচকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

এর মানে এই নয় যে গল্পটি পুরোপুরি মিথ্যা। অতীতে অনেক বেনামি সূত্রের গোয়েন্দা সাংবাদিকতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার আগেই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু এখানে কিছু নির্দিষ্ট দাবি—যেমন কভার-স্টোরির দুর্বল গোয়েন্দা কৌশল, আহমাদিনেজাদকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়ার কৌশলগত অসামঞ্জস্যতা, খোদ ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দাদের সন্দেহ এবং যাচাইযোগ্য প্রমাণের অভাব—সব মিলিয়ে এটি নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক থাকার অবকাশ রয়েছে।

ইরানের ক্ষমতার চাবিকাঠি যাদের হাতে, সেই আইআরজিসি-র গোয়েন্দা সংস্থার কাজের ধরন বিবেচনা করলে একটি বিষয় নিশ্চিত: আহমাদিনেজাদ ইসরাইলের সাথে হাত মিলিয়েছেন—এমন সামান্য প্রমাণও যদি থাকত, তবে তাকে এতদিনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো। উলটো, তার পূর্বসূরি মোহাম্মদ খাতামি এবং উত্তরসূরি হাসান রুহানির বিপরীতে তাঁকে কড়া পাহারায় হলেও খামেনির নজিরবিহীন জানাজায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে যে, ইরানি শাসনব্যবস্থা আহমাদিনেজাদকে খুব বেশি বিপজ্জনক মনে করে না।

পাঠক এবং বিশেষ করে নীতি বিশ্লেষকদের উচিত আহমাদিনেজাদকে নিয়ে এই গল্পটিকে সাম্প্রতিক যুদ্ধের কোনো প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে না দেখে, বরং একটি কৌতূহলোদ্দীপক কিন্তু চরম বিতর্কিত দাবি হিসেবে বিবেচনা করা। অন্তত যতদিন না নাম-পরিচয়হীন কর্মকর্তাদের গণ্ডি পেরিয়ে স্বাধীন কোনো সূত্র এটি নিশ্চিত করে।

আর যদি এই গল্পটি সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়, তবে আমি বাজি ধরে বলতে পারি, আহমাদিনেজাদের এই গুপ্তচরবৃত্তির শুরুটা তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার অনেক আগেই হয়েছিল। আর ক্ষমতায় থাকার সময় তিনি যতসব নাটকীয় কর্মকাণ্ড করেছেন, তার সবই ছিল তার এই গুপ্তচরবৃত্তিকে আড়াল করার একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ—যার পেছনে তার অদৃশ্য প্রভুদের পূর্ণ সম্মতি ছিল। সর্বোপরি, ইসরাইল ও আরব রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ইরান যে একটি অস্তিত্বের হুমকি—এই ইসরাইলি বয়ানকে আহমাদিনেজাদের চেয়ে আর কোনো ইরানি নেতা এত ভালোভাবে জনসমক্ষে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে, আহমাদিনেজাদের নীতিগুলোই তার গুপ্তচরবৃত্তির জন্য সবচেয়ে শক্ত আবরণ তৈরি করেছিল।

সূত্র: মিডেল ইস্ট আই