দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ‘অশালীন’ মন্তব্যের অভিযোগে এক তরুণীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। গত বুধবার (২৯ জুলাই) এ অভিযোগ দায়ের করা হয়। খবর এনডিটিভির।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, রুচিকা সিং গত ২৩ জুলাই বিক্ষোভ চলাকালে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, তার ওই মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। একই সঙ্গে তা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি, জনমনে অশান্তি ছড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এ ঘটনায় নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। জিরো এফআইআর হলো, অপরাধ যে এলাকারই হোক না কেন, দেশের যেকোনো থানায় মামলা দায়ের করা যায়। পরে সেটি তদন্তের এখতিয়ার থাকা থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
রুচিকা সিংয়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৩৫২, ৩৫৩(১) ও ৩৫৬(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে। এসব ধারায় শান্তিভঙ্গের পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে উসকানি, জনসাধারণের মধ্যে ক্ষতিকর বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার এবং মানহানির অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরে এফআইআরটি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এখন সেখানেই মামলার তদন্ত হবে।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, রুচিকা সিংয়ের মন্তব্য ভুল হয়ে থাকতে পারে। তবে এমন ঘটনার জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, কেউ যদি অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দেওয়ানি বা ফৌজদারি মানহানির মামলা করার অধিকার রাখেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ বা ফৌজদারি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের জন্য কাউকে ফৌজদারি আইনের আওতায় শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।’
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিল্লি সরকার জানায়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভে অংশ নিয়ে যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে যাদের আগে থেকেই অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে না।
দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশিস সুদ বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে আছি। সেই অবস্থান থেকেই আমরা এই নির্দেশ জারি করেছি। আমরা শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রেখেছি। তবে কোনো অসামাজিক ব্যক্তি যদি নিজের অপরাধমূলক অতীতের সুযোগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে সহিংসতা ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’