Image description

মরক্কো থেকে স্পেনের স্বশাসিত ভূখণ্ড সেউতায় প্রবেশের চেষ্টাকালে অন্তত ১৮ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। সীমান্ত অতিক্রম করে কয়েক হাজার মানুষের একযোগে সেউতায় প্রবেশের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটিতে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে স্পেন সরকার।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই সাগরপথে সাঁতরে সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ডুবে মারা গেছেন। এছাড়া তারাখাল (তারাহাল) সৈকতের ব্রেকওয়াটারের বেড়া অতিক্রমের সময় পদদলিত হয়েও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক মানুষ, যাদের অধিকাংশই মরক্কোর নাগরিক, তারাখাল সৈকতের ব্রেকওয়াটার ঘুরে সেউতার সড়কে প্রবেশ করছেন। তাদের মধ্যে তরুণদের পাশাপাশি নারী ও ছোট শিশু নিয়ে আসা পরিবারও ছিল।

ঘটনার পরও সীমান্তের মরক্কো অংশে আরও বহু মানুষ জড়ো হয়ে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। আবার কেউ কেউ সেউতা থেকে মরক্কোয় ফিরে যাওয়ার চেষ্টাও করেছেন।

এত বিপুলসংখ্যক মানুষের হঠাৎ সীমান্ত অতিক্রমের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে মরক্কো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
পরিস্থিতি পরিদর্শনে শুক্রবার সেউতা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কার।

স্পেনের সিভিল গার্ড সদস্যদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি শ্রমিক সংগঠনের প্রধান রাশিদ সিবহি পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এখনো অভিবাসীরা সীমান্ত পেরিয়ে সেউতায় প্রবেশ করছেন। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মূলত আহতদের উদ্ধার এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে।

পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্রের অভাবে হাজারো অভিবাসী, যাদের মধ্যে অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অভিভাবকহীন শিশু রয়েছে, পার্ক ও ফুটপাতে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। অনেককে উদ্দেশ্যহীনভাবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেও দেখা গেছে।

বুধবার থেকেই সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা, সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় অভিবাসীদের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। ওই রায়ে সমুদ্রপথে স্পেনে পৌঁছানো অভিবাসীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে স্থলসীমান্ত দিয়ে প্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে এ রায় প্রযোজ্য নয়।

অন্যদিকে, মরক্কোর কয়েকজন অভিবাসন অধিকারকর্মীর মতে, আদালতের ওই রায়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক ঢলের সরাসরি সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা কম। তাদের যুক্তি, অধিকাংশ অভিবাসী এমন আইনি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত স্পেনের ছোট স্বশাসিত ভূখণ্ড সেউতা দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। উন্নত জীবনের আশায় কিংবা নিজ দেশের সংঘাত ও সহিংসতা থেকে পালিয়ে বহু অভিবাসী মরক্কোর ফনিদেক ও বেলইউনেচ এলাকা থেকে সাঁতরে বা অন্য উপায়ে সেউতায় পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টা করে থাকেন।