Image description

ব্রেইনের গভীরে থাকা শক্ত টিউমার। প্রায় ৭০ শতাংশ অপসারণের পর হঠাৎ ফুলে উঠতে শুরু করল মস্তিষ্ক। একের পর এক জরুরি ব্যবস্থা নিয়েও কমছিল না সেই ফোলা। এমনকি ডিকমপ্রেসিভ ক্র্যানিয়েকটমির সময় কাজ করছিল না দুটি ক্র্যানিওটমও। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে 'সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে' রাতভর অপারেশন চালিয়ে শেষ পর্যন্ত রোগীকে সুস্থ করে তুলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোস্পাইন ও নিউরোসার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. ইসমে আজম।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজের ফেসবুক পোস্টে জটিল সেই অপারেশনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এই চিকিৎসক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার একটি ফ্যালকোটেন্টোরিয়াল মেনিনজিওমা অপসারণের জন্য রোগীর অস্ত্রোপচার শুরু করেন তিনি। সাধারণত ব্রেইনের টিউমার তুলনামূলক নরম হলেও এই রোগীর টিউমারটি ছিল অস্বাভাবিক শক্ত এবং মস্তিষ্কের একেবারে গভীরে অবস্থান করছিল। ফলে সাকশন মেশিন দিয়ে সেটি বের করা সম্ভব হচ্ছিল না। ছয়টি ‘ইলেভেন সাইজ’ ব্লেড ব্যবহার করে কেটে কেটে টিউমার অপসারণ করতে হচ্ছিল।

প্রায় ৭০ শতাংশ টিউমার অপসারণের পরই পরিস্থিতি হঠাৎ জটিল হয়ে ওঠে। ডা. ইসমে আজম দেখতে পান, রোগীর মস্তিষ্ক ফুলে উঠছে। তিনি অ্যানেসথেসিওলজিস্ট তানজিল হাসানকে রোগীর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করতে বলেন। সঙ্গে সঙ্গে এবিজি (ABG) পরীক্ষা করা হয়। তবে রিপোর্টে কার্বন ডাইঅক্সাইড জমে থাকার কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।

 

এরপর ম্যানিটল, মাথা উঁচু করে রাখা, হাইপারভেন্টিলেশনসহ বিভিন্ন জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও মস্তিষ্কের ফোলা কমছিল না। পরিস্থিতি সামাল দিতে অপারেশনের একপর্যায়ে মস্তিষ্কের পাশ দিয়ে গিয়ে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (CSF) বের করার চেষ্টা করা হয়। কিছু রক্তের জমাটও বের করা হয়। এরপর ডিকমপ্রেসিভ ক্র্যানিয়েকটমি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বিপত্তি বাধে সেখানেও, দুটি ক্র্যানিওটমই কাজ করছিল না।

 

 

ডা. ইসমে আজম তার পোস্টে লিখেছেন, এমন অসহায় অবস্থায় আল্লাহকে ডাকা ছাড়া আর কী-ই বা করার ছিল। এসব করতে করতেই ভোর হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত রোগীকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

এরপর ফজরের নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে ঘুমাতে যান তিনি।

ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই আইসিইউতে ফোন করেন ডা. ইসমে আজম। ওপাশ থেকে আসে স্বস্তির খবর রোগীর অবস্থা আগের চেয়ে ভালো।

এরপর কয়েক দিন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকার পর সেই রোগীকেই হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। ফেসবুক পোস্টের শেষে ডা. ইসমে আজম লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’।

জটিল ওই অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি ফ্যালকোটেন্টোরিয়াল মেনিনজিওমার হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করেছেন। মস্তিষ্কের গভীরে অবস্থান করা এ ধরনের টিউমারের অস্ত্রোপচারে জটিলতা তৈরি হলে তা সামাল দিতে নিউরোসার্জারি, অ্যানেসথেশিয়া ও আইসিইউ টিমের সমন্বিত চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

কালবেলা