বাণিজ্যিক বা বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুমোদন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে সৌদি আরবের নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পথ উন্মুক্ত হতে পারে। খবর বিবিসির
বুধবার (২২ জুলাই) চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কথা রয়েছে। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রায় ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মূল্যমান কয়েক বিলিয়ন বা কয়েক হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাবে। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবের পারমাণবিক অবকাঠামো তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে, যা বিদেশি অন্যান্য প্রতিযোগী সংস্থাকে দৌড় থেকে অনেকটাই ছিটকে ফেলবে।
খবরে বলা হয়, চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ পর্যালোচনার পর সৌদি আরবে মার্কিন কোনো প্রতিষ্ঠানের তৈরি পারমাণবিক কেন্দ্রেই নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এই অনুচ্ছেদটি ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হওয়া চুক্তির থেকে আলাদা, যেখানে আমিরাতকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ না করার শর্ত মেনে নিতে হয়েছিল।
তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে মার্কিন কংগ্রেসে এবং ওয়াশিংটনের প্রধান মিত্র দেশ ইসরায়েলের বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ব্যবস্থা পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি তৈরির পাশাপাশি পারমাণবিক বোমার কাঁচামাল তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে সৌদি আরবকে পারমাণবিক অস্ত্র ক্ষমতার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার বিরোধীদের।
ইরানের সঙ্গে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে সংঘাত ছড়ানোর পেছনে তাদের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান স্পষ্ট করেছিলেন যে, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করলে সৌদি আরবও দ্রুত সেই পথে হাঁটবে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যৌথ পর্যালোচনার পর যদি যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে আপত্তি জানায়, তবে পরবর্তী ১০ বছর সৌদি আরব নিজস্ব বা অন্য কোনো বিদেশি অংশীদারের সহায়তায় এটি করতে পারবে না। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত মার্কিন কংগ্রেসে চুক্তিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই এটি উত্থাপন করা হবে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, চুক্তিটি সম্পাদনের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্তটি তুলে নেওয়া হয়েছে।