Image description

আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটা। মনে হচ্ছিল, পুরো ভবন মাথার ওপর ভেঙে পড়বে—বলছিলেন সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার। তিনি বিবিসির মুন্দোতে (স্প্যানিশ ভাষার সংবাদ বিভাগ) কাজ করেন।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার পর যখন শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে তখন কোলস্টার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের সপ্তম তলায় ছিলেন। কারাকাসের মধ্যাঞ্চলের পালোস গ্রান্দেসে ভবনটি অবস্থিত।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে নিকোল বলেন, ‘আমি দেখলাম, জানালাগুলো নড়ছে। ওই সময় সামনের দরজা আর একটি পাথরের দেয়ালের মাঝে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আমার মাথায় আর কিছুই আসেনি। দেয়ালটা মজবুত বলে মনে হয়েছিল।’

একপর্যায়ে নিকোলের প্রতিবেশীরা চিৎকার করতে করতে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তখন তিনিও ঘরের বাইরে আসেন।

কারাকাসের পূর্বাঞ্চলে ছিলেন আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী কোরো মার্তিনেজ। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের সময় ‘বিকট শব্দ’ হয়েছিল। ৫৬ বছর বয়সী এ নারী বলেন, ‘ঘরে জিনিসপত্র, এমনকি ফ্রিজের ভেতরে থাকা জগগুলোও একের পর এক পড়ে গেল। আমি আগে কখনো এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইনি।’

এর আগে ১৯৬৭ সালে কারাকাসে এমন শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে অবসরে যাওয়া মারিয়া রোমেরো নামের একজন বলেন, ‘এবারেরটা ওই ভূমিকম্পের চেয়েও ভয়াবহ ছিল।’

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ৩৯ সেকেন্ডের মাথায় কারাকাস থেকে পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।

আমি দেখলাম, জানালাগুলো নড়ছে। ওই সময় সামনের দরজা আর একটি পাথরের দেয়ালের মাঝে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আমার মাথায় আর কিছুই আসেনি। দেয়ালটা মজবুত বলে মনে হয়েছিল।
নিকোল কোলস্টার, বিবিসির সাংবাদিক

জোড়া ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। তবে অল্প সময় পরই তা তুলে নেয় কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়নি।

ইউএসজিএস বলেছে, পরপর শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের আঘাতে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ১০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ দুর্যোগের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

কারাকাসে ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে বের করে আনছেন উদ্ধারকর্মীরা। ২৪ জুন, ২০২৬
কারাকাসে ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে বের করে আনছেন উদ্ধারকর্মীরা। ২৪ জুন, ২০২৬ছবি: এএফপি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে কারাকাসে ব্যাপক ধ্বংসের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। হাসপাতালগুলোতে আহত ব্যক্তিরা ভিড় করছেন। কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে বিদ্যালয় ও রেলসেবা।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে কারাকাসে ব্যাপক ধ্বংসের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। হাসপাতালগুলোতে আহত ব্যক্তিরা ভিড় করছেন। কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে বিদ্যালয় ও রেলসেবা।

কারাকাসের পূর্বাঞ্চলের চাকাও–এর মেয়র গুস্তাভো দুকে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এখানে দুটি স্থাপনা ভেঙে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনজন নিহত ও ১৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মেয়র বলেন, ‘আমরা যত বেশি সম্ভব মানুষকে উদ্ধার করতে সাধ্যমতো সবকিছু করব।’

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেল্লো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘আমাদের অনেক ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে। নিরাপত্তা ও বেসামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে আমাদের কাছে যা কিছু আছে, সব দিয়েই আমরা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি। দমকল–পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।’

ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, কারাকাসে ১৮১২ সালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পে মারা যান প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।