ওয়াশিংটনের সঙ্গে সই করা সমঝোতা স্মারক যদি তেহরান মেনে না চলে, তবে ‘যা করা দরকার, তা–ই করার’ হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘যদি ইরান সমঝোতার শর্ত না মানে কিংবা তাদের আচরণ ঠিকঠাক না থাকে; তবে আমার যা করা দরকার, আমি সেটাই করব।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত সপ্তাহে নিজ নিজ দেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর মাস চারেক পর যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান এ সমঝোতায় পৌঁছায়। ওই আগ্রাসনের জবাবে ইরানও ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
আলোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে ইতিমধ্যে জানিয়েছে দুই পক্ষ। এর ধারাবাহিকতায় ইরানের জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও লেবাননে যুদ্ধবিরতির মতো বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান নিয়ে সংশয় এখনো রয়ে গেছে।
গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের জব্দ অর্থ ছাড় করার উদ্দেশ্য ছিল, সেই অর্থ দিয়ে দেশটি শুধু যুক্তরাষ্ট্র থেকেই খাদ্যপণ্য কিনবে।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় তেহরান। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের খবরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মতির বরাতে বলা হয়, সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য কিনতে ইরানের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
এ খবরের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, ‘ছাড় করা সব অর্থ শেষ পর্যন্ত খাদ্যপণ্য কেনার জন্য ব্যয় হবে, যা তাদের (ইরানের) খুবই প্রয়োজন। দেশটিতে ৯ কোটি ১০ লাখ মানুষ। কিন্তু তারা নিজেদের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করতে পারে না। আমরা যে অর্থ ছাড় করছি, তা শেষ পর্যন্ত আমাদের কৃষকদের কাছেই ফিরে আসবে।’
জব্দ অর্থ শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এ অর্থ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকা অন্যান্য পণ্য কিনতেও ব্যয় করা যেতে পারে বলে তাসনিম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।
ইরানের ছাড় করা সব অর্থ শেষ পর্যন্ত খাদ্যপণ্য কেনার জন্য ব্যয় হবে, যা তাদের খুবই প্রয়োজন। দেশটিতে ৯ কোটি ১০ লাখ মানুষ। কিন্তু তারা নিজেদের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করতে পারে না। আমরা যে অর্থ ছাড় করছি, তা শেষ পর্যন্ত আমাদের কৃষকদের কাছেই ফিরে আসবে।ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট
সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে গত রোববার থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেছেন। আলোচনার লক্ষ্য, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া ১৪ দফার অন্তর্বর্তী চুক্তিতে (সমঝোতা স্মারক) থাকা বিষয়গুলো নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা।
আলোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে ইতিমধ্যে জানিয়েছে দুই পক্ষ। এর ধারাবাহিকতায় ইরানের জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও লেবাননে যুদ্ধবিরতির মতো বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান নিয়ে সংশয় এখনো রয়ে গেছে।