Image description

ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ‘দখল’ করতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে সুইজারল্যান্ডে চলমান শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধি দলকেও কঠোর ভাষায় হুমকি দিয়েছেন তিনি।

 
 

ফক্স নিউজের সঙ্গে দীর্ঘ ২০ মিনিটের এক ফোনালাপে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, যদি প্রয়োজন হয়, তবে আমরা হরমুজ প্রণালি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেব। তিনি আরও যোগ করেন, ইরান যদি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক বা টোল আদায় শুরু করবে। 

ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এই প্রণালির ‘অভিভাবক’ বা রক্ষক হয়ে উঠতে পারে এবং এর বিনিময়ে সেখান দিয়ে পার হওয়া জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ নিজেদের দাবি করতে পারে।

মূলত লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির সামরিক কমান্ডের বরাত দিয়ে জানায়, ইসরাইল কর্তৃক লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং যুদ্ধ অবসানের খসড়া চুক্তির প্রথম শর্ত বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রতিবাদে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে।

 

 

ইরানের এই হুমকির পরই ফক্স নিউজের লাইভে এসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফোনালাপের সময় ট্রাম্পকে ইরানে পুনরায় মার্কিন বোমাবর্ষণ শুরু করার এবং সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে থাকা ইরানি কূটনীতিকদের সরাসরি হুমকি দিতে দেখা যায়।

জলপথটি বন্ধ করার বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের কী বলেছেন, তা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আমি তাদের বলেছি তোমরা যদি এটি বন্ধ করো, তবে তোমাদের কোনো দেশই অবশিষ্ট থাকবে না। এমনকি তোমরা নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ারও সুযোগ পাবে না।

এদিকে শুধু হরমুজ প্রণালিই নয়, লেবাননে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পেছনে ইরানের মদদ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। রোববার (২১ জুন) সকালে নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে তিনি লেখেন, লেবাননে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য ইরানকে তাদের বিপুল অর্থপুষ্ট প্রক্সি বা অনুগত গোষ্ঠীগুলোকে অবিলম্বে থামাতে হবে। তারা যদি এটি না করে, তবে গত সপ্তাহের চেয়েও আরও মারাত্মকভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানো হবে।

 

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বিতর্কিত ও আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পর হরমুজ প্রণালি দখলের বাস্তব রূপরেখা বা আইনি ভিত্তি কী হতে পারে, তা জানতে হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: সিএনএন।