Image description

দক্ষিণ লেবাননে হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তবে দেওয়া হয়নি দখলকৃত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো নির্দেশ।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই নেওয়া হয়েছে এ সিদ্ধান্ত।

এর আগে হরমুজ প্রণালির দিকে কোনো জাহাজকে না যেতে সতর্ক করে ইরানের ইসলামি বিপ্লনী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। তাদের দাবি, ওই জলপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোর পড়তে পারে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা এবং যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ওয়াশিংটনের ব্যর্থতার কারণেই নেওয়া হয়েছে এমন পদক্ষেপ।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম বলছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে নেই। আল জাজিরা আরবকে দেওয়া এক বক্তব্যে সেন্টকমের মুখপাত্র জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে স্বাভাবিক নৌচলাচল নিশ্চিত করতে নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘন করছে হিজবুল্লাহ। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওরেন মারমোরস্টেইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘অব্যাহতভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে যাচ্ছে হিজবুল্লাহ।’

তবে ইসরায়েলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির গণমাধ্যমবিষয়ক কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের যে দাবি ও মিথ্যাচার প্রচার করছে ইসরায়েলি শত্রুপক্ষ, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’ তাদের ভাষ্য, এসব অভিযোগ জনমতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অন্তর্বর্তী সমঝোতা নস্যাৎ করার একটি উদ্যোগ।

হিজবুল্লাহ আরও দাবি করেছে, শুক্রবার ভোর থেকে ইসরায়েল ৩০০টিরও বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এর মধ্যে বিমান হামলা, ফসফরাস গোলা নিক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের ঘটনাও রয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪ হাজার ৫৭ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১২১ জন। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দা।