Image description

চার বছর পর প্রথমবারের মতো পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য এ সফরে তাদের সঙ্গে থাকবেন সাত বছর বয়সী ছেলে আর্চি ও পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে লিলিবেট।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরকালে রাজকীয় এস্টেটের ভেতরে অবস্থিত একটি বাসভবনে থাকার জন্য হ্যারি-মেগানকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি এই দম্পতি।

এর আগে যুক্তরাজ্য সফরে বাকিংহাম প্যালেসে থাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি। তার মতে, জনসম্মুখে থাকা এমন স্থানে নিরাপত্তা ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এবার তাদের জন্য কোন রাজকীয় বাসভবনটি নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

আগামী বছরের জুলাইয়ে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হবে আহত ও অসুস্থ সামরিক সদস্যদের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর ‘ইনভিকটাস গেমস’। এ আয়োজনের কাউন্টডাউন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী মাসে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রিন্স হ্যারির।

রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইচ্ছার কথা গত বছর এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছিলেন হ্যারি। রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। ২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্ল্যাটিনাম জুবিলির সময় তাদের সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য সাক্ষাৎ হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ক্ল্যারেন্স হাউসে বাবার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন হ্যারি।

তবে আসন্ন সফরে রাজা চার্লসের সঙ্গে হ্যারি, মেগান ও তাদের সন্তানদের সাক্ষাৎ হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বাকিংহাম প্যালেস। বিষয়টিকে তারা ‘ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এদিকে সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এখনো স্পষ্ট নয়। জানা গেছে, বাকিংহাম প্যালেস থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রদানের কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। যুক্তরাজ্যে এ ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়।

চার বছর পর সন্তানদের সঙ্গে হ্যারি-মেগানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি পারিবারিক সফর নয়; এটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজকীয় বাসভবনে থাকার আমন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য পারিবারিক পুনর্মিলনের জল্পনা সফরটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এখন নজর থাকবে— এই সফর কি দূরত্ব কমিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, নাকি পুরোনো টানাপোড়েনই বহাল থাকবে।