Image description

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমূর্তি স্থাপন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান ঘিরে উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজপথে। মূর্তি স্থাপনের পক্ষে-বিপক্ষে কর্মসূচিও পালিত হচ্ছে। এমনই এক কর্মসূচীতে হিন্দুদের জন্য আলাদা প্রদেশ গঠনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী নামে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। তার বক্তব্য নিয়ে সর্বমহলে চলছে সমালোচনার ঝড়।

 

চৈতালীর বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ইসলামভিত্তিক রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও। তারা বলছেন, ওই নারী আইনজীবীর বক্তব্য দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি এবং সাম্প্রতিক সম্প্রীতি বিনষ্টের উস্কানি। এমন বক্তব্যকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে চৈতালী চক্রবর্তী আইনের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন ইসলামী দলের নেতারা।

 

এ প্রসঙ্গে এশিয়া পোস্টের সঙ্গে আলাপকালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘বাংলাদেশ সার্বভৌম রাষ্ট্র। এমন বক্তব্য দিয়ে সে দেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছে। দেশকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র করেছে। ওই আইনজীবীর বক্তব্য সন্ত্রাসী বক্তব্য। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহের মামলা হওয়া উচিত।’

 

মুসলমান-হিন্দু সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে হেফাজতের এই নেতা আরও বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর এ দেশের আলেমসমাজ তাদের (হিন্দুদের) ঘরবাড়ি পাহারা দিয়েছে। তাদের কাউকে তো মারা হয়নি। তাহলে তারা মারামারির কথা বলছে কেন?’

 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদও বলছেন, চৈতালী চক্রবর্তীর বক্তব্য দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি ও উসকানিমূলক। এশিয়া পোস্টকে মাওলানা জালালুদ্দীন বলেন, ‘এমন বক্তব্যের পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি-না সরকারকে তা খতিয়ে দেখতে হবে।’

 

চৈতালীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব আহমদ আবদুল কাইয়ূম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এ বক্তব্যে এমন কিছু আপত্তিকর শব্দ উঠে এসেছে, যা দাবির ভাষা নয়। এতে গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যায়। তাকে (চৈতালী) অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং তার আইনজীবী সনদ বাতিল করতে হবে।’

 

চৈতালী চক্রবর্তীর বক্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মনে করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, সমস্যা থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে। কিন্তু এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়।

 

ঘটনার নেপথ্যে কী

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্যরামপুর গ্রামের বৃন্দাবনপাড়ায় অবস্থিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালি মন্দির। শ্রী হরিদাস বাবু এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে দেশের সর্বোচ্চ শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর রাজশাহীর ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রী মনোজ কুমার এই মন্দিরে সর্বোচ্চ শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ উদ্বোধন করেন। এই মন্দিরে ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি’ স্থাপন ও নির্মাণ কাজ চলছিল। সম্প্রতি এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, স্পর্শকাতর একটি এলাকায় বৃহৎ পরিসরে মূর্তি নির্মাণ ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।