Image description

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অবৈধ অভিবাসন ও রাজনৈতিক আশ্রয় প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় আইন কার্যকর করেছে। ১২ জুন থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন কাঠামোর মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, স্ক্রিনিং, প্রত্যাবর্তন নীতি এবং আশ্রয় প্রক্রিয়াকে একীভূত ও দ্রুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, অবৈধভাবে ইইউ সীমান্তে প্রবেশকারীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হবে। সীমান্তে ধরা পড়লে সাত দিনের মধ্যে এবং দেশের অভ্যন্তরে আটক হলে তিন দিনের মধ্যে স্ক্রিনিং সম্পন্ন করতে হবে।

এই ব্যবস্থায় শেনজেন অঞ্চলের সব দেশে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ‘ইউরোড্যাক’ ডাটাবেজের মাধ্যমে সব তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে অননুমোদিত চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালে আশ্রয়প্রার্থীদের সীমান্ত এলাকায় রাখা হতে পারে এবং প্রয়োজনে চলাচলও সীমিত করা যাবে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি অভিবাসী চাপে থাকা দেশগুলোকে অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো সহায়তা করবে।

গত বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট অবৈধ অবস্থানকারীদের প্রত্যাবর্তন নীতিতেও পরিবর্তন অনুমোদন করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। সহযোগিতা না করলে বা পালানোর ঝুঁকি থাকলে সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত আটক রাখার বিধান রাখা হয়েছে।

ঢাকায় ইতালির দূতাবাস জানিয়েছে, নতুন নীতির আওতায় লিবিয়া বা অন্য দেশ হয়ে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে সীমান্তেই আটক ও প্রত্যাবর্তন করা হবে। ফলে অবৈধভাবে প্রবেশের সুযোগ আরও সীমিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপের এই কঠোর নীতির কারণে অনিয়মিত অভিবাসন কমবে, তবে বৈধভাবে ভিসা ও দক্ষ জনশক্তির চাহিদা আরও বাড়বে।

শীর্ষনিউজ