Image description

হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে এবং এটি স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত থাকার ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সোমবার (১৫ জুন) ইরান জানিয়েছে, প্রণালিতে যাতায়াতের জন্য টোল আরোপ করা হবে না। তবে, কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু সেবার বিনিময়ে ফি নেওয়া হবে। খবর দ্য নিউ ইয়র্কটাইমস

ফলে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের খরচ ও জটিলতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌপরিবহনের ক্ষেত্রে এটি নতুন ও সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ নজির তৈরি করবে। কারণ, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের আগে এ জলপথ ব্যবহারে কোনো ধরনের অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন ছিল না।

সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আমরা যাতায়াতের ওপর টোল আরোপ করতে চাই না। তবে যে সেবাগুলো দেওয়া হবে, সেগুলোর বিনিময়ে ফি নেওয়া হবে।

তবে ইরান কী ধরনের সেবা দেবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবেশগত কিছু চার্জ আরোপের বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে।

সামুদ্রিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, টোল এবং সেবার বিনিময়ে নেওয়া ফির মধ্যে আইনগত পার্থক্য রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে কোনো বন্দরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো সেবার জন্য ফি নেওয়া যেতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের ফি বৈধ হলেও হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ বৈধ হবে না। দীর্ঘদিন ধরে বিনা মূল্যে ব্যবহৃত একটি জলপথে জাহাজ চলাচলের জন্য অর্থ পরিশোধ বাধ্যতামূলক করাকে শুধু ‘ফি’ নামে অভিহিত করলেই তা বৈধ হয়ে যাবে না।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি প্রথম সামনে আসে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান আঞ্চলিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়।

মার্চে ইরানি কর্মকর্তারা জানান, তারা এ জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া শুরু করবেন। পরে মে মাসে ইরান ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ গঠন করে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি ‘নিরাপদ চলাচলের অনুমতিপত্র’ পরিচালনা করবে।

একই মাসে ইরান ও হরমুজ প্রণালির অপর পাড়ের প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে জাহাজের জন্য একটি অর্থ পরিশোধব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করে।