Image description

মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে সুস্থ ঘোষণার পর আদালতে হাজির করার ঘোষণা দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দীর্ঘক্ষণ তার কোনো খোঁজ না মেলায় নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়। অবশেষে দীর্ঘ নাটকীয়তার পর মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে দেখা গেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান আহমেদ প্রধানকে।

 

বিকেল ৪টার দিকে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বিকেল ৫টার দিকে জিসানকে আদালতে তোলা হবে। এর আগে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে হাসপাতাল থেকে তাকে বিকেল ৪টা ২২ মিনিটে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

 

তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও জিসানকে আদালতে আনা হয়নি। আদালত প্রাঙ্গণে অপেক্ষমাণ আইনজীবী, সাংবাদিক ও স্বজনদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন। হাসপাতাল থেকে আদালতের দূরত্ব অল্প হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় তাকে আদালতে না আনার কারণে পরিস্থিতি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।

 

এ অবস্থায় সন্ধ্যার আগে জিসানকে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হলে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে। তাকে একনজর দেখতে আদালত এলাকায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে কৌতূহল দেখা যায়। আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীরাও তার আদালতে উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

 

 

গত বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় জিসান আহম্মেদ প্রধানকে। পরে তাকে প্রথমে লাকসাম জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর তার উদ্ধার, চিকিৎসা এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে তাকে আদালতে উপস্থাপন না করার বিষয়টি নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

 

আদালতে হাজিরের মধ্য দিয়ে জিসানকে ঘিরে দিনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটির আপাত সমাপ্তি ঘটলেও মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আগ্রহ এখনো অব্যাহত রয়েছে।