Image description

শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করবেন না বা কোনো নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করবেন না। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন তিনি।

ট্রাম্প জানান, চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর এসব পদক্ষেপ বিবেচনা করবেন তিনি।

তিনি বললেন, ‘চুক্তির পর হবে। হ্যাঁ। তারা যদি ঠিকভাবে আচরণ করে, যদি ভালোভাবে এগোয়, তখন আমরা আলোচনা শুরু করব। হ্যাঁ।’

ট্রাম্প আরও বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি কোনো চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করছেন না তিনি।

তবে এর আগে, ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মহসেন রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আস্থার পরিবেশ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে জব্দ থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা পারস্য উপসাগরের গণ্ডি ছাড়িয়ে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

রেজায়ি বললেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) যদি ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে চান, তাহলে এই ২৪ বিলিয়ন ডলারই হবে আস্থার পরীক্ষা। এটি আমাদের নিজেদের অর্থ, আমেরিকার অর্থ নয়।’

এই সপ্তাহে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারগুলোতে ইরানের এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য এবং ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা রেজায়ি বলেছেন, ওয়াশিংটন বারবার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করেছে এবং তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনার বর্তমান অচলাবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী।

সিএনএনের ফ্রেড প্লেইটগেনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেজায়ির অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্যত আলোচনা স্থবির করে দিয়েছেন। তার মতে, এখন কূটনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপর।

রেজায়ি বললেন, ‘এখন বল ট্রাম্পের কোর্টে।’ তিনি আলোচনাকে অচলাবস্থায় রয়েছে বলে উল্লেখ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সঙ্গে টেকসই চুক্তি চায়, তাহলে আস্থা পুনর্গঠনে তাদের বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।

তার মতে, সেই পদক্ষেপগুলোর অন্যতম হলো জব্দ থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা।