Image description

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ১০০তম দিনে উভয় পক্ষের নতুন সামরিক পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র বাহরাইন ও কুয়েতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা দুটি ইরানি ড্রোন হরমুজ প্রণালির আকাশে ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে ওয়াশিংটনের আচরণকে ‘উসকানিমূলক’ বলে উল্লেখ করেছে।

সংঘাত নিরসনে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি শনিবার তেহরানে পৌঁছেছেন। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির কাছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি ‘বিশেষ চিঠি’ বহন করছেন বলে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা চুক্তি হলেও দেশটির জব্দকৃত সম্পদ তাৎক্ষণিকভাবে মুক্ত করা হবে না।

 

অন্যদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ সম্পদের একটি অংশ উপসাগরীয় দেশগুলোর পুনর্গঠন ও ক্ষতিপূরণে ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।

এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই দাবি করেছিলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে কমপক্ষে ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত করতে হবে।

লেবাননে অব্যাহত ইসরায়েলি হামলা

এদিকে লেবাননেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে একটি সামরিক যানবাহনে ইসরায়েলি হামলায় দুই সেনা কর্মকর্তা ও একজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার সাকসাকিয়েহ শহরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে ড্রোন হামলায় তাদের চারজন রিজার্ভ সেনা আহত হয়েছেন।

জবাবে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা নাকৌরা এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি কমান্ড সদরদপ্তরে ‘আবাবিল’ ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লেবাননে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে এটিকে দেশটির সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেছে।

গাজায় নিহত আরও ১০

গাজাতেও হামলা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার ইসরায়েলি হামলায় সেখানে আরও ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে গাজা সিটিতে ড্রোন হামলায় প্রাণ হারানো এক ব্যক্তি ও তার ছেলেও রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বৃহত্তর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।