উত্তর কোরিয়া কখনোই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করবে না এবং নিজেদের পারমাণবিক শক্তি ক্রমাগত বাড়াতেই থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের ক্ষমতাধর বোন কিম ইয়ো জং। সোমবার (৮ জুন) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের ঠিক আগে এক বিবৃতিতে তিনি এই ঘোষণা দেন।
দুই দেশের ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে কিম ইয়ো জং স্পষ্ট করেন, উত্তর কোরিয়া কোনো ধরনের হুমকি বরদাশত করবে না এবং পিয়ংইয়ংকে পরমাণুমুক্ত করার মার্কিন প্রচেষ্টাকে তিনি একটি ‘সেকেলে স্বপ্ন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-র বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
কিম জং উনের সরকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকা কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর আগে গত মে মাসে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যকার এক শীর্ষ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণুমুক্ত করার বিষয়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটন একমত হয়েছে বলে দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
এই প্রসঙ্গে কিম ইয়ো জং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিটি অসত্য এবং এ বিষয়ে তাদের কাছে সবচেয়ে সঠিক তথ্য রয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে রাষ্ট্রপ্রধানের ঘোষণা অনুযায়ী আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক যুদ্ধের সক্ষমতা ক্রমাগত শক্তিশালী করার নীতি একটি চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয় সিদ্ধান্ত, যা কোনো শর্ত ছাড়াই বাস্তবায়ন করা হবে। মার্কিন কিছু কর্মকর্তা এখনও অবাস্তব ও সেকেলে স্বপ্ন থেকে জেগে উঠতে পারেননি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কিম ইয়ো জংয়ের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি তাদের একটি নতুন পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কারখানা জনসমক্ষে এনেছে। সেখানে পরিদর্শনের সময় কিম জং উন দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার ‘জ্যামিতিক হারে’ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ-জানায়, কিম জং উন একটি প্রধান গোলাবারুদ কারখানা পরিদর্শন করেছেন এবং আগামী পাঁচ বছরে দেশের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা আড়াই গুণ বাড়ানোর আদেশ দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের সাথে আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনের আগে নিজেদের দরকষাকষির অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং পারমাণবিক কর্মসূচিকে আরও বেগবান করার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতেই উত্তর কোরিয়া এই নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রটি প্রদর্শন করেছে।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কিম জং উন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তর কোরিয়াকে একটি পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াতে চান, যাতে পরবর্তীতে তিনি দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানাতে পারেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রায় সাত বছরের মধ্যে প্রথম এই উত্তর কোরিয়া সফর বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার একটি বড় প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ উত্তর কোরিয়াই চীনের একমাত্র আনুষ্ঠানিক চুক্তিভিত্তিক মিত্র। সেনা প্রদর্শন ও বিদেশি নেতাদের সাথে বৈঠকে কিম জং উনের পাশে প্রায়ই তার বোন কিম ইয়ো জং এবং তার কিশোরী কন্যা কিম জু অ্যাকে দেখা যায়, যাকে কিমের উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: স্কাই নিউজ।