আলবেনিয়ার পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল আড্রিয়াটিক উপকূলে একটি বিশাল বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দেশটির হাজার হাজার মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের মালিকানাধীন একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই প্রকল্পটির বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (৫ জুন) রাতে রাজধানী তিরানায় বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
১.৪ বিলিয়ন ইউরোর (১.৬ বিলিয়ন ডলার) এই মেগা প্রকল্পটি কুশনারের আফিনিটি পার্টনার্স নামক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আলবেনিয়ার একটি দ্বীপ এবং ভজোসা-নার্তা সুরক্ষিত এলাকার কাছে অবস্থিত অবিকৃত উপকূলীয় অঞ্চলে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরিবেশবাদীদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা স্থানীয় সুরক্ষিত জলাভূমি এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে ফ্লেমিঙ্গো, সিল এবং সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার এই প্রাকৃতিক স্থানটির কয়েক শত হেক্টর আদিম সৈকত এর ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পিপিএনইএ-বার্ডলাইফ আলবেনিয়া নামক সংস্থার একজন পরিবেশবিদ জনি ভরপ্সি তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেখানে প্রায় ১০,০০০ কক্ষের একটি সম্পূর্ণ নতুন শহর তৈরি করা হবে, যা ওই অঞ্চলের বন্য পরিবেশকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে। তিনি অবিলম্বে সুরক্ষিত অঞ্চল থেকে সব ধরনের ভারী যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়ার এবং নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানান।
মঙ্গলবারের প্রতিবাদ সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এ সময় তাদের হাতে ছিল ইনফ্ল্যাটেবল ফ্লেমিঙ্গো এবং ‘দেশ বিক্রির জন্য নয়’ ও ‘আমি আলবেনিয়াকে দুবাইয়ের মতো দেখতে চাই না’ লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। জানা গেছে, জভেরনেক এলাকার প্রস্তাবিত জমিতে ডেভেলপাররা বিশাল কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা এবং অলাভজনক সংস্থাগুলোর এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। এর আগে গত শনিবার বিক্ষোভকারীরা ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের সাথে সংঘর্ষে জড়ালে বেশ কয়েকজন আহতও হন।
তবে তীব্র গণ-অসন্তোষ সত্ত্বেও প্রকল্পটির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা। এক বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ তিনি ক্ষমতায় আছেন, ততক্ষণ এই বিনিয়োগ বন্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আলবেনিয়াকে একটি শত্রুতামূলক দেশ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না, বরং সবাইকে স্বাগত জানানোর মানসিকতা বজায় রাখতে হবে।
অন্য দিকে, কুশনারের প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হিসেবে কাজ করা সাজান রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট এলএলসি-এর চেয়ারম্যান আশের আবেহসেরা পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হলো দায়িত্বশীলতার সাথে পরিবেশের উন্নয়ন, স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মূল্য নিশ্চিত করা। তবে আফিনিটি পার্টনার্স এবং কুশনারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কুশনার এই রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। এর আগে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডেও তার একটি প্রকল্প স্থানীয় জনগণের তীব্র প্রতিবাদের মুখে বাতিল করতে হয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স।