লেবাননে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে ইসরাইলি বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত শনিবার হিজবুল্লাহর ব্যাপক রকেট ও ড্রোন হামলার পর পাল্টা অভিযান শুরু করে ইসরাইল। এর অংশ হিসেবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার দাবি করেছে।
এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, লেবাননে স্থল অভিযান আরও সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তার ভাষায়, হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর ওপর ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।
এদিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বেড়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে আগামী সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে সীমান্তে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। লেবাননের সরকারি সূত্র অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ হতাহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরাইলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদেরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
ইসরাইলি সামরিক সূত্রের দাবি, প্রায় ২৬ বছর পর বোফোর্ট দুর্গ ও আশপাশের এলাকা পুনরায় তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এর আগে ২০০০ সালে দীর্ঘ দখলদারিত্ব শেষে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরাইল ওই এলাকা ছেড়ে দেয়।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্গে জাতীয় পতাকা ও সেনা ব্রিগেডের ছবি প্রকাশ করে দাবি করেন, দক্ষিণ লেবাননে একটি নতুন নিরাপত্তা জোন গড়ে তোলা হচ্ছে।
তবে লেবাননের এক গবেষকের মতে, এই ধরনের চিত্র প্রচার মূলত অভ্যন্তরীণ জনমতকে প্রভাবিত করার কৌশল হতে পারে।
আইডিএফ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে তাদের একজন সেনা নিহত হয়েছেন এবং হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি নাবাতিহ এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের দেইর আল-জাহরানি গ্রামে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই সামরিক উত্তেজনা সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।
সূত্র: রয়টার্স