হাতে কনফার্ম টিকিট, তা-ও পুরো পথ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যেতে হয়েছে। ট্রেন সফরের এমন অভিজ্ঞতা হতেই রেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। আর তাতেই ভারতীয় রেলকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে।
জানা গেছে, ভারতের লোকমান্য তিলক টার্মিনাস থেকে পটনা এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন চারজন যাত্রী। তারা এলটিটি পাটনা এক্সপ্রেসে উত্তরপ্রদেশের বিন্ধ্যাচল থেকে বিহারের আরা যাচ্ছিলেন। ট্রেনটি এমনিতেই প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে চলছিল।
যাত্রীরা যখন তাদের নির্দিষ্ট কোচ ‘বি৪’-এ পৌঁছে দেখেন, তাদের বার্থগুলোতে অন্য কেউ দখল করে রেখেছে। সিটে বসে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের রেলের কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেন এবং সেখান থেকে উঠতে অস্বীকার করেন।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা ট্রেনে উপস্থিত রেলকর্মীদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে পুরো পথ দাঁড়িয়েই যেতে হয় ওই যাত্রীদের। ট্রেন থেকে নামার পর তারা ‘রেল সেবা’ ও রেল মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জানান। কিন্তু সেখান থেকেও কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
এরপরে বাধ্য হয়ে তারা ভোক্তা আদালতের দ্বারস্থ হন। ভোক্তা আদালত এ ঘটনায় তাদের পক্ষে রায় দেন। ভারতীয় রেলকে জরিমানা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।
কনজিউমার কমিশন উত্তর-মধ্য রেল ও রেল মন্ত্রণালয়কে যৌথভাবে নির্দেশগুলো দিয়েছে যে টিকিট বুকিংয়ের এক হাজার ৮৭৬ টাকা ৮০ পয়সা বার্ষিক আট শতাংশ সুদসহ ফেরত দিতে হবে। এ ছাড়া মানসিক ও শারীরিক হেনস্তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আইনি লড়াইয়ের খরচ বাবদ আরও ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে।
এই ক্ষতিপূরণ ৬০ দিনের মধ্যে দিতে হবে। যদি ৬০ দিনের মধ্যে এই টাকা না দেওয়া হয়, তবে বকেয়া অর্থের ওপর বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে সুদ প্রযোজ্য হবে।
উত্তর-মধ্য রেল ও রেল মন্ত্রণালয় এই মামলার বিরোধিতা করে দাবি করে বলেছিল, এটি আইনশৃঙ্খলার বিষয়, যা রেল কর্তৃপক্ষের নয় বরং সরকারি রেল পুলিশের আওতায় পড়ে। তারা আরও দাবি করে, সেবাদানে কোনো ঘাটতি ছিল না এবং অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
তবে ভোক্তা কমিশন রেলের এই যুক্তিতে একেবারেই সন্তুষ্ট হয়নি। সব প্রমাণ যাচাইয়ের পর কমিশন জানায়, টিকিট কনফার্ম হওয়ার পরেও সেবা দিতে না পারায় যাত্রীরা চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন।
ভোক্তা কমিশন রায়ে বলেন, অভিযোগকারী একাধিকভাবে রেল দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি ও তার তিন সঙ্গী ১৩২০২ এলটিটি পাটনা এক্সপ্রেসের ‘বি৪’ কোচে তাদের আসন পাননি। ফলে ভুক্তভোগীরা মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন, যা উত্তর-মধ্য রেল ও রেল মন্ত্রণালয়ের যথাযথ সেবা না দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে।