Image description

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতে গোপনে অংশ নেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের শুরুর দিক থেকে শুরু করে এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরদিন পর্যন্ত ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত ও জ্বালানি স্থাপনায় কয়েক ডজন বিমান হামলা চালায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব হামলা পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদেরকে গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছিল। ইরানে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও হামলা পরিচালনায় দুই দেশই সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সহায়তা করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালির কৌশলগত দ্বীপ, বন্দর আব্বাস বন্দর এবং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা। এর মধ্যে একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ও একটি দ্বীপভিত্তিক তেল শোধনাগারও ছিল।

অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল ও গ্যাস স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব হামলাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে এর দায় ইরানের ওপর চাপায়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সামরিক সম্পৃক্ততার কারণে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উদ্বেগ জানায় যে, এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং বৈশ্বিক তেলের বাজার অস্থিতিশীল করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলের শেষ দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট থেকে সরে আসে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করে। সংঘাত চলাকালে ইসরায়েল সংযুক্ত আরব আমিরাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ মোতায়েন করে এবং সেনা সহায়তা দেয় বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

শীর্ষনিউজ