হামলা-সংঘাতের মাধ্যমে ইরানকে ‘নতজানু’ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, সামরিক পরাজয়ের ক্ষতিপূরণ দিতে এবং ইরানি জাতিকে নতজানু করতে শত্রুপক্ষ এখন দেশে বিভেদ ও বিচ্ছিন্নতা তৈরির ‘অন্ধ পরিকল্পনা’ হাতে নিয়েছে।
ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জাতীয় আইনসভা প্রতিষ্ঠার বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার (২৭ মে) তার এই বার্তাটি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘প্রেসটিভি’-তে পড়ে শোনানো হয়।
চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই মোজতবা খামেনির এই কড়া বার্তা সামনে এলো।
লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক ও প্রোপাগান্ডামূলক অবরোধের পর শত্রুদের ন্যূনতম পরিকল্পনা হলো ইরানে বিভেদ ও বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করা।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর প্রথম দিনই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি, তার স্ত্রী, নাতি ও পুত্রবধূ।
পিতার মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই হামলায় তিনিও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। গত মার্চ মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অত্যন্ত গোপন একটি স্থানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।