ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি ভারতীয় মুসলিমদের কাছে নতুন আতঙ্কের নাম। ঈদের আগে গরু কোরবানি না করতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলো পুলিশ। এমনকি মুম্বাইয়ের একটি হাউজিংয়ে কোরবানির জন্য খাসি নিয়ে গেলে জয় শ্রী রাম বলে মুসলিমদের ওপর হামলা করা হয়। এবং তাদেরকে বিব্রত করার জন্য শুকরের বাচ্চা নিয়ে আসা হয়।
পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির এক্সে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, রাজ্য পুলিশের এক কর্মকর্তা বলছেন, আপনারা কেউ গরু কোরবানি করবেন না। কেউ যদি লুকোচুরি করে কোরবানি করেন তাহলে বিপদে পড়বেন। পুলিশ যদি শুধু খবর পায় যে, কেউ গোপনে গরু কোরবানি করছেন তাহলে আমরা সেখানে পৌঁছে যাবো। আর খাসি কোরবানি দিলে প্রকাশ্যে দিতে পারবেন না।
ঈদের একদিন আগে পুলিশ এই ভিডিও পাবলিশ করলেও ঈদের দিন সেটা শেয়ার করে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি।
ঈদের আগে রাজ্য সরকারের এই ধরণের কর্মকাণ্ড চাপে ফেলেছে দেশটির মুসলিমদের। অবশ্য বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবেই মুসলিমরা ঈদ পালন করছেন। যারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ধর্ম পালন করেন আমাদের পক্ষ থেকে তাদের কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না।
এ বছর কলকাতার চেনা ছবিটা বদলে গেল। রেড রোডে ঈদের ঐতিহাসিক নামাজ এবার অনুষ্ঠিত হয়নি। শুভেন্দুর বিজেপি সরকার তা হতে দিল না। ঈদের জামাত হয়েছে ব্রিগেড ময়দানে। সকাল সাড়ে আটটায় এদিন ঈদের জামাত শুরু হয়। এদিন নামাজে হাজির ছিলেন ইমামে ঈদাইন ক্বারী ফজলুর রহমান। কিন্তু চেনা ভিড়টা আজ আর নেই। মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। চোখেমুখে সেই চিরপরিচিত উৎসাহ বা উদ্দীপনা নেই। উৎসবের সেই চিরাচরিত ঢেউ এবার যেন কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। এক অব্যক্ত বিষাদে আজ হৃদয় ভারাক্রান্ত। দেড় দু লাখের জায়গায় কয়েক হাজার মানুষ হাজির হয়েছিলেন ঈদ জামাতে। রাজ্যজুড়ে কোরবানিও প্রায় বন্ধ। পুরো পশ্চিমবঙ্গে আজ উৎসবহীন ঈদুল আজহা।