Image description

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ চলে এসেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন। তবে একই দিন সকালে অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কণ্ঠে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর ছিল। অ্যাক্সিওসকে তিনি বলেছেন, চুক্তি না হলে ইরানকে এমনভাবে আঘাত করা হবে, যা এর আগে কোনো দেশ কখনো দেখেনি।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন ১৩তম সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও গতকাল শুক্রবার থেকে গুঞ্জন উঠেছে—ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে ইরানের ওপর বড় ধরনের বিমান হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, সরকারি এই জরুরি পরিস্থিতির (জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক) কারণে ট্রাম্প তাঁর ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান পর্যন্ত বাতিল করেছেন।

সিবিএস নিউজের করেসপনডেন্ট ন্যান্সি কর্ডেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি তেহরানের পক্ষ থেকে পাঠানো চুক্তির খসড়া রূপরেখাটি সম্পূর্ণ পড়েছেন। তবে তিনি এটি অনুমোদন বা স্বাক্ষর করেছেন কি না, তা এখনই প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘একটি খসড়া তৈরি হয়েছে। তবে আমি তাদের (ইরান) জানানোর আগে আপনাদের বলতে পারি না, তাই না? শুধু এটুকু বলতে পারি, দুই পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি চলে এসেছে।’

তবে এই ইতিবাচক কথার পাশাপাশি সিবিএসের কাছেও নিজের চিরচেনা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘যদি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি সই না হয়, তবে আমরা এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করব, যেখানে কোনো দেশ এর আগে কখনো এত বড় এবং কঠিন আঘাতের মুখোমুখি হয়নি।’

এরই মধ্যে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা একটি ১৪ দফার খসড়া রূপরেখা চূড়ান্ত করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি।

এদিকে সিবিএসের কাছে সুর নরম করলেও, আজ সকালে দেওয়া অ্যাক্সিওসের সাংবাদিক বারাক রাভিডের কাছে ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল বেশ আক্রমণাত্মক। সেখানে তিনি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাকে ‘সলিড ৫০/৫০’ বলে উল্লেখ করেন।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন—যদি চুক্তি না হয়, তবে তিনি ইরানকে ‘জাহান্নামে পাঠিয়ে দেবেন’। তিনি অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘আমি মনে করি এখন দুটি জিনিসের যেকোনো একটি ঘটবে—হয় আমি তাদের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন আঘাত হানব, আর না হয় আমরা একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি। আমার প্রশাসনের ভেতরেও মতভেদ আছে। কিছু মানুষ দ্রুত চুক্তি চাইছে, আবার অনেকে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার পক্ষে।’

তিনি আরও জানান, আজ শনিবার রাতের মধ্যেই তিনি তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে এই চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে জরুরি পর্যালোচনায় বসবেন। আগামী কাল রোববারের (২৪ মে) মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (চুক্তি নাকি পুনরায় হামলা) জানিয়ে দেবে।

রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধ থামাতে দুই পক্ষের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনির। চলতি সপ্তাহেও তিনি তেহরানে অবস্থান করে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীরা প্রাথমিকভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন, যার আওতায় ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।

এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আজ বিকেলেই সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মিসর, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ওভাল অফিস থেকে একটি যৌথ কনফারেন্স কলে (টেলিফোনে) কথা বলেছেন।

অন্যদিকে ভারত সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আজ নয়া দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ রাতে কিংবা আগামীকালের মধ্যে আমরা বড় কোনো খবর পেতে পারি, আবার নাও পেতে পারি। তবে পর্দার আড়ালে ব্যাপক কাজ চলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে বলেছেন—এই সমস্যার সমাধান একটি উপায়ে হবেই।’