যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) পাকিস্তানি নীতিবিশেষজ্ঞ আলী কে চিশতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই খসড়ার বিভিন্ন অংশ প্রকাশ করেন।
তার দাবি, পাকিস্তানের উদ্যোগে প্রস্তুত করা এই ঘোষণাপত্রে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
প্রকাশিত খসড়া অনুযায়ী, দুই দেশ স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধে তাৎক্ষণিক, পূর্ণাঙ্গ এবং শর্তহীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে পারে। একই সঙ্গে বেসামরিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু না করার পারস্পরিক অঙ্গীকারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
খসড়ায় আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি একে অপরের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়েও জোর দেয়া হয়েছে।
এতে তথাকথিত “মিডিয়া যুদ্ধ” বন্ধের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে, যাতে উভয় পক্ষ উত্তেজনাকর প্রচারণা থেকে বিরত থাকে।
এ ছাড়া পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও ওমান সাগরে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। খসড়ায় যৌথ পর্যবেক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, চুক্তি কার্যকর হওয়ার সাত দিনের মধ্যে সব অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে ইরান চুক্তির শর্ত পুরোপুরি মানলে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয় বিবেচনা করতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শীর্ষনিউজ