Image description

তাইওয়ান কোনো সংঘাত উসকে দেবে না। তবে নিজের সার্বভৌমত্বও ত্যাগ করবে না। সাফ এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর তাইওয়ানকে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার বিষয়ে সতর্ক করেন ট্রাম্প। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পকে শি জিনপিং বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাইওয়ান। তিনি সতর্ক করেন, এই বিষয়টি ভুলভাবে পরিচালিত হলে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বেইজিং সফর শেষে ট্রাম্প তাইওয়ান নিয়ে সতর্ক বার্তা দেন ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেন, আমি কাউকে স্বাধীন হতে দেখার পক্ষে নই। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

 

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় দ্বীপটিকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তাইওয়ান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন হয়নি। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে বেইজিংয়ের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে তিনি আগ্রহী নন। তিনি আরও বলেন, শি জিনপিং এই বিষয়ে খুবই দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তবে তিনি (ট্রাম্প) কোনো পক্ষেই কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।

তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এবং তার পূর্বসূরি সাই ইং-ওয়েন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন যে তাদের আলাদা স্বাধীনতা ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই। কারণ তাইওয়ান ইতিমধ্যেই নিজেদের একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে। লাই চিং-তে ফেসবুক পোস্টে এই অবস্থান আবারও তুলে ধরেন, যা শীর্ষ বৈঠকের পর তার প্রথম সরাসরি প্রতিক্রিয়া। তিনি বলেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো প্রশ্ন নেই। তিনি লিখেছেন, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশ। তিনি আরও বলেন, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ অবশ্যই তাইওয়ানের জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে হবে।

তাইওয়ানের অধিকাংশ মানুষ নিজেদের একটি সার্বভৌম জাতি হিসেবে মনে করে। তবে অনেকেই ‘স্ট্যাটাস কুও’ বজায় রাখার পক্ষে। অর্থাৎ চীনের সঙ্গে না একীভূত হওয়া, আবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতাও ঘোষণা না করা। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে লাই চিং-তের বিরোধিতা করে আসছে। চীন তাকে ‘সমস্যা সৃষ্টিকারী’ এবং ‘ক্রস-স্ট্রেইট শান্তি ধ্বংসকারী’ বলে অভিহিত করেছে।

লাই বলেন, তাইওয়ান কোনো সংঘাত উসকে দেবে না। সংঘাত বাড়াবে না। তবে চাপের মুখে জাতীয় সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক-স্বাধীন জীবনধারা ছাড়বে না। তিনি আরও বলেন, তাইওয়ান সবসময় স্ট্যাটাস ক্যু বজায় রাখার দৃঢ় সমর্থক, পরিবর্তনের পক্ষ নয়। তিনি জানান, তাইওয়ান চীনের সঙ্গে ‘সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যকর ও সুশৃঙ্খল সংলাপ ও বিনিময়’ করতে আগ্রহী। তবে চীন যে ‘একত্রীকরণ’কে ব্যবহার করে তাইওয়ানকে আলোচনায় বাধ্য করার চেষ্টা করছে, তা তারা গ্রহণ করে না।
এর আগে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বলেন, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম, স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশ। এটি স্বতঃসিদ্ধ সত্য। পাশাপাশি তারা স্ট্যাটাস কুও বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বেইজিং বলছে, তারা শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলন চায়। তবে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের বিকল্পও তারা বাতিল করেনি। দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে আসছে, যাতে দ্বীপটি সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় মিত্র এবং প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ।

ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য ১১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম বৃহত্তম প্যাকেজ। এই সিদ্ধান্তে চীন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং তাইওয়ানের চারপাশে নিয়মিত সামরিক মহড়া, এমনকি অবরোধ অনুশীলনও বাড়িয়েছে। ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন, বেইজিং সফর শেষে তিনি এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন এবং বলেন, তিনি ও শি জিনপিং বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন।