Image description

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার মধ্যে কড়া বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিজের সামাজিক প্ল্যাটফর্মে একের পর এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে বানানো ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এখনও কার্যত শক্তি-পরীক্ষার মুখোমুখি অবস্থায়। কেউই এখনো পিছু হটছে না। এই অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক রাতে ২০টিরও বেশি পোস্ট করেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ পোস্টই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা বা যুদ্ধের বিস্তার ঘটানোর ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি ও ভিডিও। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
একটি ছবিতে দেখা যায়, ইরানের একটি মানচিত্রের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা বসানো হয়েছে এবং চারদিক থেকে তীরচিহ্ন ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যা সামরিক চাপ ও ঘেরাওয়ের ইঙ্গিত দেয়। আরেকটি পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোনকে ইরানি দ্রুতগতির নৌযানে হামলা করতে দেখা যায়। ক্যাপশনে ইংরেজিতে লেখা- ‘বাই বাই, ফাস্ট বোটস’। তিনি আরও একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইরানি বিমানকে লক্ষ্য করে আঘাত করছে। ভিডিওর পাশে ট্রাম্পের নিজের একটি ক্লিপও যুক্ত ছিল। সেখানে তাকে টেবিলে টোকা দিতে দেখা যায় এবং তিনি ইংরেজিতে বলেন- ‘বা বা বা বা... ফায়ার, বুম’। আরেকটি পোস্টে তাকে মহাকাশে একটি কল্পিত ‘স্পেস ফোর্স’ অভিযানের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। ছবিতে তিনি স্যাটেলাইটের মাঝে অবস্থান করছেন এবং উপর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পর্যবেক্ষণ করছেন। ইউনাইটেড স্টেটস স্পেস ফোর্সের নামযুক্ত আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, তিনি যেন একটি ‘কিল বাটন’ চাপছেন। আর পেছনের স্ক্রিনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও এমনকি পারমাণবিক বিস্ফোরণের মতো দৃশ্য দেখানো হচ্ছে।

 
 

সাম্প্রতিক এই অনলাইন বার্তায় ঝড়ের আগেই ট্রাম্প ইরানকে নতুন সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ইরানকে দ্রুত শান্তিচুক্তির দিকে এগোতে হবে, নইলে ‘তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’ তিনি লিখেছেন, ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তারা দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তাদের আর কিছুই থাকবে না। সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো অচলাবস্থায় এবং শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি খুবই সীমিত। এই সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দেশগুলোতেও, বিশেষ করে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে আলাদা করে প্রাণঘাতী সংঘাত বেড়েছে। ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ লেবাননে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি দাবি করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে কোনো চুক্তি গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। ফলে উত্তেজনা আরও বাড়ছে এবং পরিস্থিতি অনিশ্চিত অবস্থায় রয়ে গেছে।