Image description

বিশ্ববাজারে অশনিসংকেত। অস্থির পশ্চিম এশিয়ার তেলবাজার। ইরান যুদ্ধে ফুঁসে ওঠা ‘জ্বালানি সংকটে’র ঢেউ এবার আছড়ে পড়েছে ভারতের ত্রিপুরায়ও। ঘর সামলে তাই আগেভাগেই সজাগ হয়ে উঠেছে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নেতৃত্বাধীন রাজ্যের বিজেপি সরকার। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সেই দৃশ্য দেখল গোটা ত্রিপুরা। ব্যক্তিগত গাড়ি ফেলে বাইক, বাইসাইকেল, টমটমে অফিসপাড়ায় ঢুকছেন মন্ত্রীরা। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও মহাকরণে এসেছেন গাড়িবহর কমিয়ে। জ্বালানি সাশ্রয়ে ৫০ শতাংশ জনবল দিয়ে চলবে রাজ্য সরকার। আপৎকালীন সংকট উতরাতে বুধবারই ঘটা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। পরদিনই এই ‘অঘোষিত লকডাউন’ চিত্র খোদ মন্ত্রিপাড়াতেই।

চলতি মাসের শুরুতেই তেলের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন বিজেপি কাণ্ডারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী, সবাই একযোগে নেমেছেন জ্বালানি সাশ্রয়ে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা নিজের নিরাপত্তা কনভয় সাতটি থেকে কমিয়ে চারটিতে নামিয়েছেন। এখন তার নিজের গাড়ি ছাড়া কনভয়ে থাকছে মাত্র তিনটি। এই ছোট্ট বহর নিয়েই বৃহস্পতিবার আগরতলার সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সফরে সড়কপথের বদলে নিয়েছেন রেলপথ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত।

একই দিনে সরকারি গাড়ি ছেড়ে ব্যাটারিচালিত টমটমে চেপে অফিসে এসেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ। এদিন দুপুরে আগরতলার সড়কে টমটমে চেপে অফিসে যেতে দেখা গেছে মন্ত্রীকে। এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে সকালে বাইসাইকেলে নিজস্ব এলাকা মোহনপুরে ঘুরতে দেখা গেছে তাকে। তাদের অনুসরণ করছেন অন্য মন্ত্রীরাও। পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীও তার সুরক্ষায় নিয়োজিত দুটি এসকর্ট গাড়ি ব্যবহার বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। মোটরসাইকেলে ঘুরতে দেখা গেছে ওই মন্ত্রীকেও।

সরকারি সূত্রের খবর, অন্য মন্ত্রীদেরও সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে নিজ নিজ দপ্তরে। এরই মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয় ও সরকারি ব্যয় কমানোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে রাজ্য সরকারের সব দপ্তরেই। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ, সরকারি গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বৈঠক-সফর কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৫০ শতাংশ কর্মচারীকে বাড়িতে বসে (ওয়ার্ক ফর হোম) কাজ করার নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। সরকারের এ হঠাৎ উদ্যোগকে ‘লোক-দেখানো’ খোঁচা দিতে ছাড়েননি বিরোধী দল কমিউনিস্ট পার্টির (মার্ক্সবাদী) নেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘জনগণের পয়সায় ডজন ডজন চার্টার্ড বিমানে চড়ে কলকাতা ও গৌহাটিতে যখন মিলিত হলেন, তখন সংকট ছিল না; নিজেদের সিদ্ধিলাভ হতেই অস্টেরিটি (কৃচ্ছ)?’ উনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সমালোচনা করে এই হুল ফোটান ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে।

সরকারিভাবে এই উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও বিরোধীদের ‘লোক-দেখানো’ ফোড়ন কাটছে জনগণও। মন্ত্রীদের এমন আচরণে বিরূপ প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের মনে।

আতঙ্ক গড়িয়েছে পুরো রাজ্যে। সরকারি কর্মচারীরা অফিসে না এলে থমকে যাবে কাজ। যেকোনো সময় বাড়বে তেলের দাম— এই গুঞ্জনে তাড়াহুড়া লেগেছে জ্বালানি মজুদেও।