মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুদ্ধবিরতির মাঝেই কুয়েতের আকাশে শত্রুপক্ষের একাধিক ড্রোন প্রবেশের ঘটনা সামনে এসেছে, যা অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভোরের দিকে দেশের আকাশসীমায় কয়েকটি অজ্ঞাত ড্রোন শনাক্ত করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এসব ড্রোন প্রতিহত করেছে।
তবে ড্রোনগুলো কারা পাঠিয়েছে কিংবা এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলার জন্য আমিরাত সরাসরি ইরানকে দায়ী করে। যদিও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার বা নিশ্চিত কোনোটিই স্পষ্টভাবে করেনি, তবে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
অন্যদিকে, অঞ্চলটির বেশ কয়েকটি আরব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে কৌশলগতভাবে একমত হয়ে ইরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
এদিকে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি-তেও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি এখন কার্যত ঝুঁকির মুখে।
বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতের আকাশে ড্রোন অনুপ্রবেশ শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনারই বহিঃপ্রকাশ। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিস্তৃত যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সূত্র: আল জাজিরা