হরমুজ প্রণালিতে দুটি ইরানি ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এ আচরণকে ‘দুঃসাহসী’ ও ‘বখাটে আচরণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। খবর আল জাজিরা
শুক্রবার (৮ মে) সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আত্মমুগ্ধতা, লোভ ও বেপরোয়া ভুল সিদ্ধান্ত থেকে তৈরি হওয়া গভীর লজ্জা ‘হালকা চড়’-জাতীয় শব্দ ব্যবহার করে আড়াল করা যাবে না।
গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর মার্কিন হামলাকে ‘লাভ ট্যাপ’ বা ‘ভালোবাসার ছোঁয়া’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
বাঘাই আরও বলেন, বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন ও বিভ্রান্তিকর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট এখন আর কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না।
এর আগে এক্স-এ দেওয়া পৃথক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরানের জনগণ কখনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ কি কেবল চাপ প্রয়োগের কৌশল, নাকি আবারও কেউ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নতুন এক সংঘাতে জড়িয়ে দিচ্ছে।
আরাগচির আরও বলেন, যখনই কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানের পথ বেছে নেয়।
তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ও উৎক্ষেপণ সক্ষমতা এখন ১২০ শতাংশ বেশি। এ দাবির পক্ষে তিনি একটি মার্কিন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ছবিও যুক্ত করেন। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এর যৌথ বোমা হামলার পরও ইরান ধারণার চেয়ে বেশি অস্ত্র সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী দুটি খালি তেলবাহী ট্যাংকার দেশটির বন্দরে ঢোকার সময় অচল করে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য, জাহাজ দুটি চলমান মার্কিন অবরোধ ভঙ্গ করছিল।
সেন্টকমের দাবি, নির্ভুল গোলাবারুদ ব্যবহার করে জাহাজগুলোর ধোঁয়ার চিমনিতে আঘাত করা হয়েছে। বর্তমানে ৭০টির বেশি ট্যাংকার ইরানি বন্দরে ঢোকা বা বের হওয়া থেকে বিরত রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।
এর আগে, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করেছে।
অন্যদিকে ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলবাহী জাহাজসহ উপকূলীয় এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে।