যুক্তরাজ্যজুড়ে লেবার পার্টির ভরাডুবির মধ্যেও ব্রিটিশ রাজনীতির ইতিহাসে নিজের নাম খোদাই করলেন ফরহাদ হোসেন। লন্ডনের কোনও বারার ইতিহাসে মূলধারার কোনও দলের প্রার্থী হিসেবে লেবার পার্টির মনোনয়নে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সিলেটের শিকড় থেকে উঠে আসা ফরহাদ নিউহ্যামের বাসিন্দাদের নিরঙ্কুশ জনসমর্থন পেয়েছেন।
নির্বাচনে ২৫ হাজার ৫৩৮ ভোট পেয়ে বড় জয় পেয়েছেন ফরহাদ হোসেন। তিনি সদ্য বিদায়ী মেয়র রোকসানা ফিয়াজের স্থলাভিষিক্ত হলেন, যিনি টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। লন্ডনের অন্যত্র গ্রিন পার্টি এবং রিফর্ম ইউকে-র কাছে লেবার পার্টি যখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন ফরহাদের এই জয় পূর্ব লন্ডনে দলের আধিপত্য ধরে রাখতে শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
নবনির্বাচিত মেয়র ফরহাদ হোসেন নিউহ্যামের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্লাস্টো নর্থের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি অপরাধ দমন, অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ এবং বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পোর্টফোলিওগুলোর প্রধান হিসেবেও কাজ করেছেন।
বিজয়ী ঘোষণার পরপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফরহাদ হোসেন এই মুহূর্তের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এটি এই বারার জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। নিউহ্যাম আমাকে আজ এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, আর সেই বারার মেয়র নির্বাচিত হওয়া আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান। গণতন্ত্র তখনই সার্থক হয় যখন সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে সেবা করার সুযোগ পায়।’
মূলধারার রাজনীতিতে একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নেতার এই উত্থান ব্রিটিশ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক। আগামী মঙ্গলবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফরহাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে একটি শক্তিশালী ও কার্যকরী ক্যাবিনেট গঠন করা, যা বারার তীব্র আবাসন সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মতো জরুরি সমস্যাগুলো মোকাবিলা করবে।