দক্ষিণ লেবাননের একটি খ্রিষ্টান গ্রামে কুমারী মেরির মূর্তির মুখে সিগারেট গুঁজে দিয়ে আবারও বিতর্কের মুখে পড়েছে ইসরায়েলি সেনা।
বুধবার (৬ মে) এ ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অভিযুক্ত সেনাকে শনাক্ত করেছে এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।
আইডিএফের তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনাটি লেবাননের দবেল গ্রামের। ছবিটি কয়েক সপ্তাহ আগের হলেও বুধবার এটি জনসমক্ষে আসে।
এই দবেল গ্রামে গত মাসেও এক ইসরায়েলি সেনার আরও একটি বিতর্কিত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছিল। ওই ছবিতে দেখা যায়, এক সেনা যিশুর মূর্তি ভেঙে ফেলেছিল এবং সোলার প্যানেল নষ্ট করেছিল। বারবার একই গ্রামে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ঘটনায় স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ওই সেনার আচরণ তাদের সামরিক আদর্শের পরিপন্থি। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ চললেও তারা সব ধর্মের পবিত্র স্থান ও প্রতীকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ধর্মীয় স্থাপনার ক্ষতি করার উদ্দেশ্য তাদের নেই।
ইসরায়েল খ্রিষ্টানদের সঙ্গে সুসম্পর্কের দাবি করলেও সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক গির্জা ও ধর্মীয় প্রতীকে হামলার ঘটনা সেই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। গত ১৭ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও বর্তমানে সেটি ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।
২ মার্চ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা শুরু করে। দবেল গ্রামটি খালি করার নির্দেশ না দেওয়া হলেও সেখানে বারবার ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ধর্মীয় অবমাননার শিকার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের। যুদ্ধবিরতিও এখন উল্লেখযোগ্যভাবে ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। যদিও মধ্য এপ্রিলে ঘোষিত সেই বিরতির আগের তুলনায় হামলার তীব্রতা এখন কম।