Image description

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রাঠকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, ভুয়া নম্বরপ্লেট লাগানো একটি গাড়ি দিয়ে তার গাড়ির পথ আটকে দেয়া হয়। এরপর মোটরসাইকেলে আসা হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে গুলি চালায়। পুলিশের ধারণা, পুরো হামলাটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং এতে পেশাদার শুটার জড়িত থাকতে পারে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

 

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, পশ্চিমবঙ্গের মধ্যমগ্রামে বুধবার রাতে গুলি করে হত্যা করা হয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রাঠকে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ভুয়া নম্বরপ্লেট লাগানো একটি গাড়ি দিয়ে তার গাড়ির পথ আটকে দেয়ার পর মোটরসাইকেলে আসা হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। মধ্যমগ্রামের দোলতলা এলাকায় চন্দ্রনাথ রাঠের গাড়িকে অনুসরণ করছিল মোটরসাইকেলে থাকা কয়েকজন হামলাকারী। এরপর ভুয়া নম্বরপ্লেটযুক্ত একটি গাড়ি রাস্তার মাঝখানে তার গাড়িকে থামতে বাধ্য করে।

 

এরপর মোটরসাইকেলে থাকা হামলাকারীরা গাড়ির জানালা দিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে ভুয়া নম্বরপ্লেটযুক্ত গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা সেটি ফেলে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। হাসপাতালের এক চিকিৎসক পিটিআইকে জানান, বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চন্দ্রনাথ রাঠকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার হৃদপিণ্ডেও গুলি লেগেছিল এবং হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।

এক প্রত্যক্ষদর্শী এনডিটিভিকে বলেন, ‘চন্দ্রর গাড়ি আমার গাড়ি পার হওয়ার পর হঠাৎ মাঝরাস্তায় থেমে যায়। তখন মোটরসাইকেলে থাকা একজন এসে গাড়ির বাম পাশে গুলি চালাতে শুরু করে। হামলাকারীকে পেশাদার মনে হচ্ছিল। সে দ্রুত পালিয়ে যায়। খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছিল। আমি দুই রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছি। ঘটনাটি রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘটেছে।’

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, হত্যাকাণ্ডে চারটি মোটরসাইকেল ও একটি গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল। ভুক্তভোগীর বাড়ি থেকে প্রায় ১৭০ মিটার দূরে এই ঘটনাটি ঘটে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিচালক সিদ্ধ নাথ গুপ্ত বলেন, ‘যে সন্দেহজনক গাড়িটি রাঠের গাড়ির পথ আটকে দিয়েছিল বলে অভিযোগ, সেটি জব্দ করা হয়েছে। তবে এর নম্বরপ্লেটটি ভুয়া বলে পাওয়া গেছে’। তিনি আরও জানান, মোটরসাইকেলগুলোতেও কোনও নম্বরপ্লেট ছিল না। গাড়িটির চ্যাসিস নম্বরও পরিবর্তন করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

পুলিশের ধারণা, হামলায় অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থাকে বলেন, হামলাকারীরা সম্ভবত গ্লক ৪৭এক্স পিস্তল ব্যবহার করেছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এ ধরনের অস্ত্র সাধারণ অপরাধীরা সাধারণত ব্যবহার করে না। পেশাদার শুটার জড়িত ছিল কি না, সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি।’

প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, চারটি মোটরসাইকেলে থাকা হামলাকারীরা সমন্বিতভাবে রাঠের গাড়ি আটকে খুব কাছ থেকে অন্তত কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। রাজ্যের ডিজিপি বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে খালি কার্তুজ ও অব্যবহৃত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়।’

বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডল এই হত্যার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছেন। তিনি এনডিটিভিকে বলেন, ‘একজন নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনব।’

আরেক বিজেপি নেতা নিখিল প্রসূনও ঘটনার জন্য তৃণমূলকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা বহু বছর ধরে চলা সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন যা তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছে। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং তা খতিয়ে দেখা উচিত।’

 

শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাটিকে ‘ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, হামলার আগে হত্যাকারীরা এলাকায় রেকি করেছিল। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি হৃদয়বিদারক। আমরা এর নিন্দা জানাই। যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে হামলাকারীরা আগে থেকেই এলাকা পর্যবেক্ষণ করেছিল।’

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এক্সে দেয়া পোস্টে ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় জয় পেয়েছে। দলটি ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে দিয়েছে।