২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন করতে আলোচনা চলে প্রায় দুই বছর। তারপর একটি অগ্রগতি আসে। তাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল শুরু করা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র খুব অল্প সময়ের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে। এমন আশা করা অবাস্তব, বিশেষ করে যখন এতে ক্ষতিপূরণ ও উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার মতো জটিল বিষয় জড়িত। যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ইতিমধ্যেই চাপে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে তা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশ্বজুড়ে মানুষ দ্রুত সমাধান চাইলেও বাস্তবতা হলো, এসব বিষয়ে সময় লাগে। তাই শনিবার পাকিস্তানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির ইসলামাবাদ সফরকে ব্যর্থ বলা ঠিক হবে না। যদিও আরাঘচি পাকিস্তান ত্যাগ করার পর তার প্রতিনিধিদের পাঠাতে অস্বীকৃতি জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, তবুও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো থেমে যায়নি।ইতিবাচক দিক হলো, ওমান সফর শেষে এবং মস্কো যাওয়ার আগে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক আবার পাকিস্তানে ফিরে যান। ট্রাম্প যদিও বলেছেন তিনি ‘অর্থহীন’ আলোচনার জন্য লোক পাঠাতে চান না, তবুও তিনি স্বীকার করেছেন পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো ইরানের প্রস্তাবে ‘অনেক কিছু আছে, কিন্তু যথেষ্ট নয়’।
বাস্তবতা হলো, যদি উভয় পক্ষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আলোচনা চালিয়ে যায়, তাহলে একটি ন্যায্য চুক্তি সম্ভব। এই ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার। কারণ সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যাতে আলোচনা ভেঙে না পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে এমন যুদ্ধ এড়ানো যায়। ইরানের আত্মসমর্পণের কোনো পরিকল্পনা করা উচিত নয় যুক্তরাষ্ট্রের। ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের তীব্র হামলা, নিষেধাজ্ঞা এবং বন্দর অবরোধ সহ্য করে এসেছে। তাই শান্তির বার্তা হিসেবে ওয়াশিংটনের উচিত অবরোধ তুলে নেয়া এবং তেহরানকে প্রকৃত নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার সুযোগ দেয়া। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আগ্রাসন না চালানোর প্রতিশ্রুতি দেয়া, বিশেষ করে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইলকে অন্যান্য সার্বভৌম রাষ্ট্রে হামলা থেকে বিরত রাখা। ট্রাম্প বলেছেন তার দেশ ‘সব তাস’ হাতে রেখেছে- এটি বিতর্কিত দাবি।
অন্যদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালিকে চাপ সৃষ্টির উপায় হিসেবে ব্যবহার করলেও, বৈশ্বিক অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে তাদেরও অবরোধ তুলে নেয়া উচিত। যদিও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আশা কম, তবুও অন্তত একটি শান্তির কাঠামোতে পৌঁছানো সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উচিত ট্রাম্প ও তার কঠোর যুদ্ধনীতি অনুসরণকারী মন্ত্রীদের বোঝানো, যাতে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সংবাদ সম্মেলনে ইরানকে হুমকি দেয়া বন্ধ করেন। কারণ অনেক সময় এমন অসংযত মন্তব্যই গোপন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ভণ্ডুল করে দিতে পারে। এই ভুল এড়ানো জরুরি।