ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পেছনে বড় ভূমিকা পাকিস্তানের কার্যকর কূটনীতির, যাতে আবার যুদ্ধের দিকে না গড়ায় পরিস্থিতি। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি এখনো অস্থির। বড় জটিলতার একটি হলো— পারস্পরিক অবরোধ: ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানি বন্দর অবরোধ।
দুই পক্ষ অপেক্ষা করছে— কে আগে নতি স্বীকার করে অবরোধ তুলে নেবে।
এই ইস্যু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদে নির্ধারিত শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া কঠিন। বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইসলামাবাদে বৈঠক করেন ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে। তবে এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত ইরান আলোচনায় অংশ নেবে কি না— তা স্পষ্ট ছিল না। উল্টো খবর এসেছে, অন্তত দুটি অননুমোদিত জাহাজ জব্দ করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের উসকানিমূলক সোশ্যাল পোস্ট পরিস্থিতি জটিল করছে, তবুও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বৃহত্তর স্বার্থ মাথায় রাখা জরুরি
যদিও যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ছিল অবরোধ তুলে নেওয়া। প্রতিক্রিয়ায় ইরানেরও উচিত ছিল হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া। এটি একটি বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ হতে পারত— তবুও উভয়পক্ষের, বিশেষ করে ইরানের উচিত নয় এমন কূটনৈতিক সুযোগ হাতছাড়া করা। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া যুদ্ধের মূল কারণ নয়, বরং এর পরিণতি। তাই তেহরানের উচিত আলোচনায় ফিরে আসা, বিশেষ করে যখন ‘ফলপ্রসূ সংলাপ’ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান।
তেহরানের অনেক আপত্তিই যৌক্তিক। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের আক্রমণের শিকার হয়েছে ইরান। কিন্তু এই অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ আলোচনা; অন্যথায় ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে ফিরে যাওয়া, যা বিপর্যয় ডেকে আনবে পুরো অঞ্চলে। ইরানের প্রতিনিধিদের উচিত আলোচনার টেবিলে তুলে ধরা তাদের সব আপত্তি ও দাবি।
বিশ্ব জনমতের বড় অংশ ইরানের পক্ষে। তবে উপসাগরে অবরোধের কারণে অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকলে এই অবস্থান বদলাতেও পারে
আলোচনায় অবশ্যই হতে হবে বাস্তব অগ্রগতি। এটি যেন শুধুই ছবি তোলার অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না থাকে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উসকানিমূলক সোশ্যাল পোস্ট পরিস্থিতি জটিল করছে, তবুও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বৃহত্তর স্বার্থ মাথায় রাখা জরুরি। সেটি হলো— এই যুদ্ধের মূল কারণগুলো সমাধান করা এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে অবিশ্বাস কমানো।
পারমাণবিক ইস্যুর সমাধান অসম্ভব নয়। এজন্য উভয়পক্ষকেই সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি এই ইস্যুতে অগ্রগতি চায়, তাকে ইরানের সঙ্গে একটি কার্যকর আগ্রাসনহীন চুক্তির প্রস্তাব দিতে হবে এবং সংযত রাখতে হবে তার মিত্র ইসরায়েলকে।
বর্তমানে বিশ্ব জনমতের বড় অংশ ইরানের পক্ষে, কারণ এই সংঘাতে ইরানকে ভুক্তভোগী হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তবে উপসাগরে অবরোধের কারণে অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকলে এই অবস্থান বদলাতেও পারে— বিশেষ করে যদি ইরানকে আলোচনায় অনীহা দেখাতে দেখা যায়।