ইরান যুদ্ধ ধীরে ধীরে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ থেকে সরে এসে এখন পরিণত হয়েছে এক ধরনের ‘ধৈর্যের লড়াইয়ে’-যেখানে সময়ই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক পোস্টে বলেছেন, ‘এই যুদ্ধে সময় তার প্রতিপক্ষ নয়। তিনি ছয় সপ্তাহের সামরিক অভিযানকে অতীতের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধগুলোর সঙ্গে তুলনা করেছেন।’
সময় কি সত্যিই বড় বিষয় নয়?
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাস্তবতা ভিন্ন। ইতিহাসে দেখা গেছে, যুদ্ধের সময়কাল শুধু সামরিক সাফল্য দিয়ে নির্ধারিত হয় না। উদাহরণ হিসেবে ইরাক যুদ্ধের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। ইরাকের আকাশে মার্কিন আধিপত্য এবং জোটের অনেক উন্নত অস্ত্রশস্ত্র মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইরাকি সামরিক বাহিনীকে দ্রুত পরাজিত করতে সক্ষম করেছিল। ২০০৩ সালের ৯ই এপ্রিল বাগদাদের পতন হয় এবং তার সাথে ইরাকি সরকারেরও পতন ঘটে। কিন্তু পরে দীর্ঘ ও জটিল সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ, দ্রুত শুরু হলেও যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি সংকটে রূপ নিতে পারে।
ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
এই যুদ্ধের বড় প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও—সেখানে জ্বালানির দাম বেড়েছে, সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে এবং দ্রুত সমাধানের চাপ তৈরি হচ্ছে।
ট্রাম্প বারবার বলেছেন, জ্বালানির দাম শিগগিরই কমবে। তবে তারই জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সতর্ক করে বলেছেন, দাম কমতে কয়েক মাস লাগতে পারে। এই মতবিরোধ নিঃসন্দেহে প্রশাসনের ভেতরের অনিশ্চয়তাও তুলে ধরছে।
ইরানের কৌশল: সময়কে হাতিয়ার করা
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে হামলার মুখেও ইরান তাদের সক্ষমতা ধরে রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হিসাব হলো-তারা দীর্ঘ সময় চাপ সহ্য করতে পারবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতে পারবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান হিসাব করছে- যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে, জনগণের অসন্তোষ বাড়বে, এতে আলোচনায় তাদের অবস্থান শক্তিশালী হবে। অর্থাৎ, ইরান সময়কে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করতে চাইছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তিন ধরনের কৌশল একসঙ্গে প্রয়োগ করছে- সামরিক চাপ (হামলার হুমকি), অর্থনৈতিক চাপ (অবরোধ) এবং কূটনৈতিক চাপ (আলোচনা)। ওয়াশিংটনের ধারণা, এই চাপের ফলে ইরান এমন একটি চুক্তিতে রাজি হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনুকূল।
কে আগে নত হবে?
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- যুক্তরাষ্ট্র কি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সামলে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারবে? নাকি ইরানই আগে ছাড় দেবে?
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ এখন শুধু অস্ত্রের নয়- সময়, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ধৈর্যের লড়াই।